মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর বড় ধরনের নদীপথ অভিযান শুরু হওয়ার পর অন্তত ১০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, চিন্দউইন নদী দিয়ে সামরিক নৌবহর অগ্রসর হওয়ার সময় নদীর দুই তীরের বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে গোলাবর্ষণ করা হয়।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের ছয় তারিখ সকালে সশস্ত্র নৌবহরটি উত্তরমুখে যাত্রা শুরু করে। বহরে দুটি যুদ্ধজাহাজের নিরাপত্তায় কয়েক ডজন মালবাহী লৌহ নির্মিত নৌযান ছিল, যেগুলোর মাধ্যমে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ পরিবহন করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
বাসিন্দারা জানান, গোলাবর্ষণ ও নদীতীর ঘেঁষে স্থলপথে সেনা অগ্রযাত্রার কারণে অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় সামরিক বাহিনী ভারী অস্ত্র ও রসদ পরিবহনে নদীপথের ব্যবহার বাড়িয়েছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
এদিকে চলমান সামরিক অভিযানের কারণে আগে থেকেই বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। আশ্রয় নেওয়া অনেক পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থান বন্ধ থাকায় খাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
বাস্তুচ্যুতদের অনেকেই আশপাশের গ্রামের বিদ্যালয়ে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান শুরু হলে সেখান থেকেও সরে যেতে হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে আরও বড় একটি নৌবহর ওই এলাকায় পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে উত্তরাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হয়।
এদিকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় গত প্রায় দুই মাস ধরে সামরিক বাহিনীর শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। নদীপথে নতুন অভিযান শুরু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের বহু মানুষ আরও গভীর অভ্যন্তরীণ এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
















