পোল্যান্ডে গ্রীষ্মকাল এলেই বিশেষ এক ধরনের বুনো বেরি দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পাউরুটির চাহিদা বেড়ে যায়। ‘ইয়াগোদজিয়াঙ্কা’ নামে পরিচিত এই খাবারটি এখন শুধু মৌসুমি সুস্বাদু খাবারই নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় আলোচনার বিষয় এবং একটি অনানুষ্ঠানিক জাতীয় উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হয়েছে।
ঐতিহ্যগতভাবে খামিরের ময়দার ভেতরে টক-মিষ্টি বুনো বেরি ভরে তৈরি করা হয় এই পাউরুটি। বহু বছর ধরে এটি পোল্যান্ডের গ্রীষ্মকালের অন্যতম জনপ্রিয় বেকারি খাবার হিসেবে পরিচিত। দেশটির প্রায় প্রতিটি মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই খাবারের স্বাদ নিয়েছেন বলে খাদ্যবিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঐতিহ্যবাহী এই খাবারে নতুনত্ব এনেছেন কারিগরি বেকারিরা। উন্নত মানের খামির, বেশি পরিমাণ ফল, নতুন প্রস্তুতপ্রণালি এবং ভিন্ন ধরনের উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে নতুন সংস্করণ, যা ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এই জনপ্রিয়তার ফলে অনেক বেকারির সামনে ভোর থেকেই দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সীমিত উৎপাদনের কারণে অনেক সময় অল্প সময়ের মধ্যেই সব পাউরুটি বিক্রি হয়ে যায়। উচ্চমূল্যের কারণে এটি অনেকের কাছে বিশেষ আকর্ষণ ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
ঐতিহ্যবাহী এই খাবারের জনপ্রিয়তা আরও বাড়াতে কয়েক বছর আগে গ্রীষ্মকালের মাঝামাঝি সময়ে ‘ইয়াগোদজিয়াঙ্কা দিবস’ চালু করা হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে স্বাদ গ্রহণের আয়োজন, ঘরোয়া প্রস্তুত প্রতিযোগিতা এবং সেরা বেকারি নির্বাচনের মতো নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
খাদ্যবিশেষজ্ঞদের আশা, পোল্যান্ডের এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পাউরুটি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আরও বেশি পরিচিতি পাবে এবং দেশটির খাদ্যসংস্কৃতির অন্যতম পরিচায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
















