যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল দ্রুত পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়েছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ০.৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ২১ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির আশাবাদে তেলের দাম দ্রুত কমে এলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই ধারণায় ধাক্কা দিয়েছে। একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এই নৌপথে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
এদিকে এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সূচকগুলো নিম্নমুখী থাকলেও হংকং ও তাইওয়ানের বাজারে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের বড় বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ লাভজনকতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে প্রযুক্তি খাতের কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরও কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশ আবারও সংঘাত কমিয়ে আলোচনায় ফেরার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে এবং কাতারের দোহায় নতুন দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
















