ভারতের থিংক ট্যাংক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ORF)–এর প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে, যা বিশেষ করে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন বাস্তবতা তৈরি করে। গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, এসব পরিবর্তন বাংলাদেশের ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অবস্থান ও কৌশলগত ভারসাম্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতির ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করেছিল। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই ভারসাম্য থেকে সরে এসে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার হয়, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে পুনর্গঠনের চেষ্টা দেখা যায়।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চীনের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সংযোগ, বাণিজ্য ও অবকাঠামো সহযোগিতার কিছু ক্ষেত্রে স্থবিরতা তৈরি হয়। অন্যদিকে জাপান উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখলেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্য ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় কোনো একক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখা প্রয়োজন। লেখকের মতে, নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সমন্বিত সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা।
গবেষণাপত্রে উপসংহারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক অবস্থান নির্ভর করবে এমন একটি পররাষ্ট্রনীতির ওপর, যা উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য একসঙ্গে বজায় রাখতে সক্ষম হবে।
















