চীনের দ্রুত সম্প্রসারিত পারমাণবিক সক্ষমতা ভারতের বিদ্যমান পারমাণবিক প্রতিরোধনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ (NFU) নীতি অনুসরণ করলেও বাস্তব সামরিক সক্ষমতার উন্নয়ন দেশটিকে আরও প্রস্তুত ও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিচ্ছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (SIPRI) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো ভারতের ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেডকে ‘মোতায়েনকৃত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এটি মূলত ভারতের পারমাণবিক সাবমেরিন আইএনএস অরিহন্ত ও আইএনএস অরিঘাতের টহল কার্যক্রমের ভিত্তিতে করা একটি অনুমান, ভারতের পারমাণবিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রমাণ নয়।
ভারতের ২০০৩ সালের পারমাণবিক নীতিতে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ এবং ‘বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধ’ নীতি অনুসরণ করা হয়। এ নীতির আওতায় অধিকাংশ পারমাণবিক অস্ত্র এখনো আলাদা অংশে সংরক্ষিত থাকে এবং প্রয়োজন হলে অনুমোদনের পর সেগুলো সক্রিয় করা হয়। তবে সাবমেরিনভিত্তিক প্রতিরোধব্যবস্থা, ক্যানিস্টারযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক ত্রিমাত্রিক সক্ষমতার (স্থল, আকাশ ও সমুদ্র) বিকাশ ভারতের সামরিক প্রস্তুতি ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের দ্রুত পারমাণবিক আধুনিকীকরণ ও অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণ ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর ফলে নয়াদিল্লিকে ভবিষ্যতে আরও উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ প্রযুক্তি এবং বৃহত্তর প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে হতে পারে।
একই সঙ্গে ভারতের পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও সামরিক কর্মকর্তাসহ কয়েকজন নীতিনির্ধারক অতীতে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতির সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি।
















