মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাধা সৃষ্টি বা টোল আরোপ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের পরিপন্থী এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ (UNCLOS) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ইরান এই কাঠামোর কিছু অংশ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে নিজস্ব অবস্থান বজায় রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রও এখনো ইউএনক্লস অনুমোদন না দেওয়ায় এ বিষয়ে তার কূটনৈতিক অবস্থান কিছুটা দুর্বল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এশিয়ার বড় অংশের জ্বালানি আমদানি হয়। ফলে এই রুটে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা অতিরিক্ত ব্যয় আরোপ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এশিয়ার আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো। একই সঙ্গে এটি বিশ্বব্যাপী অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও একই ধরনের পদক্ষেপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংকট এশিয়ার দেশগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি ও পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এনেছে। তবে এই রূপান্তর সফল করতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থা, উন্মুক্ত সমুদ্রপথ এবং নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা কার্যকর রাখা অপরিহার্য।
বিশ্লেষকদের মতে, ছোট ও বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত সমুদ্রপথ কেবল অর্থনৈতিক সুবিধা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। তাই হরমুজসহ আন্তর্জাতিক নৌপথকে ভূরাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার ঠেকাতে আঞ্চলিক ঐক্য ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
















