বিশ্বজুড়ে প্রতি ছয়টি দম্পতির মধ্যে একটি বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভুগলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে পুরুষের বন্ধ্যত্ব এখনো চিকিৎসা ও জনসচেতনতায় যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। গবেষণায় দেখা গেছে, বন্ধ্যত্বের প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই পুরুষের সমস্যা এককভাবে বা নারীর সমস্যার সঙ্গে মিলিতভাবে দায়ী থাকলেও চিকিৎসা ব্যবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীকেই প্রধান রোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরামর্শ দিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ফলে সমস্যার সঠিক কারণ শনাক্ত করতে দেরি হয়, চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে এবং দম্পতিদের মানসিক চাপও বেড়ে যায়। অনেক পুরুষ জানান, পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় তারা নিজেদের উপেক্ষিত ও বিচ্ছিন্ন মনে করেন।
চিকিৎসকদের মতে, পুরুষের বন্ধ্যত্ব শুধু সন্তান ধারণের সমস্যা নয়; এটি স্থূলতা, হরমোনজনিত জটিলতা, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান কিংবা অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিরও ইঙ্গিত হতে পারে। তাই প্রাথমিক পর্যায়েই শুক্রাণু পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন—যেমন ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত ব্যায়াম—শুক্রাণুর গুণগত মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সুফল পেতে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখতে হবে।
এদিকে চিকিৎসক ও গবেষকরা পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যকে জনস্বাস্থ্য নীতিতে আরও গুরুত্ব দেওয়া, সমান চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক ট্যাবু দূর করতে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, পুরুষের বন্ধ্যত্ব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে অনেক দম্পতির চিকিৎসা আরও কার্যকর ও সহজ হতে পারে।















