তুরস্কের মধ্যাঞ্চলের কোনিয়া (Konya) অঞ্চল, যা দেশটির অন্যতম প্রধান কৃষি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, সেখানে দ্রুত বাড়ছে বিশাল সিঙ্কহোল বা ভূমিধসের গর্তের সংখ্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি খরা, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এবং অনিয়ন্ত্রিত কৃষি কার্যক্রম মিলেই এ সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (AFAD) জানিয়েছে, কোনিয়া অববাহিকায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৮৪টি সিঙ্কহোল সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটির ব্যাস ২২৮ মিটার এবং গভীরতা ১৭১ মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। কৃষিজমির মাঝখানে হঠাৎ এসব বিশাল গর্ত তৈরি হওয়ায় কৃষকরা যেমন আতঙ্কে রয়েছেন, তেমনি খাদ্য উৎপাদনও হুমকির মুখে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনিয়া একটি ‘ক্লোজড বেসিন’ হওয়ায় এখানকার ভূগর্ভস্থ পানিই পুরো অঞ্চলের পরিবেশ ও কৃষির প্রধান ভরসা। কিন্তু খরার কারণে পানির ঘাটতি বাড়ায় হাজার হাজার বৈধ ও অবৈধ কূপ থেকে অতিরিক্ত পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে ভূগর্ভের শূন্যস্থান দুর্বল হয়ে ভূমি ধসে সিঙ্কহোল তৈরি হচ্ছে।
ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (WWF) তুরস্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে কোনিয়া অঞ্চলের প্রায় এক লাখ কূপের মধ্যে ৬৬ হাজারই ছিল অবৈধ। গবেষকদের মতে, পানি ব্যবহারে দীর্ঘদিনের অস্থিতিশীল নীতি ও জলনির্ভর ফসল চাষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
ভূতত্ত্ববিদদের সতর্কবার্তা, সিঙ্কহোল শুধু কৃষিজমিই নয়, বসতি, সড়ক ও অবকাঠামোর জন্যও বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে। যদিও এখন পর্যন্ত এতে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, তবে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকটের সমাধানে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কম পানি প্রয়োজন এমন ফসল চাষে উৎসাহ, অবৈধ কূপ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নীতি গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় কোনিয়ার কৃষি উৎপাদন, পরিবেশ এবং খাদ্য নিরাপত্তা দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
















