নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংঘাতপ্রবণ এলাকায় নারী নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ তরুণদের গ্যাং সহিংসতা থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় নারী সংগঠন, কমিউনিটি নেতা এবং সহিংসতা ত্যাগ করা সাবেক গ্যাং সদস্যদের অংশগ্রহণে পরিচালিত সচেতনতামূলক কর্মসূচির ফলে বহু তরুণ অস্ত্রের পথ ছেড়ে শান্তিপূর্ণ জীবনে ফিরছে।
বর্নো অঙ্গরাজ্যের মাইদুগুরি ও জেরে অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ‘মারলিয়ান’ নামে পরিচিত যুব গ্যাংগুলো ছুরি, কুঠার ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আধিপত্য বিস্তার এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ত। এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা বোকো হারাম সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও সামাজিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এসব গোষ্ঠীর বিস্তার ঘটে।
২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে নারী উন্নয়ন সংগঠন ইউএমডব্লিউএ (UMWA) স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় গ্যাং নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ শুরু করে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, সামাজিক দায়িত্ব এবং শান্তির গুরুত্ব তুলে ধরে তরুণদের মানসিক পরিবর্তনের চেষ্টা চালানো হয়।
আজিলারি ও গোমারি এলাকার নারী নেত্রীরা সাপ্তাহিক শান্তি বৈঠক, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং ঝুঁকিপূর্ণ তরুণদের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সহিংসতা কমাতে কাজ করছেন। স্থানীয়দের দাবি, এ উদ্যোগের মাধ্যমে এক হাজারের বেশি গ্যাং সদস্য সহিংসতা ত্যাগ করেছে।
একসময় গ্যাং সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়া মোহাম্মদ আবদুলহামিদ এখন নিজেই তরুণদের সহিংসতা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। একইভাবে সাবেক গ্যাং সদস্য মা’আজি আব্বাও মনে করেন, সহিংসতার মূল কারণ শুধু বেকারত্ব নয়; বরং দীর্ঘদিনের সংঘাতপূর্ণ পরিবেশ তরুণদের এ পথে ঠেলে দেয়।
তবে অর্জিত সাফল্য এখনো ঝুঁকির মুখে রয়েছে। পর্যাপ্ত পুনর্বাসন ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সাবেক সদস্য প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় থাকেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক শান্তি উদ্যোগ অর্থসংকটে পড়েছে।
তবুও স্থানীয় নারী নেতাদের বিশ্বাস, ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে সহিংসতা কমানো সম্ভব। তাদের মতে, তরুণদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা গেলে পুরো সমাজই এর সুফল পাবে।
















