পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত শহর কস্তিয়ানতিনিভকার চারপাশে রুশ বাহিনীর চাপ দ্রুত বাড়ছে। ইউক্রেনীয় সেনাদের দাবি, শহরটির বিভিন্ন অংশে রুশ সেনারা অনুপ্রবেশ করেছে এবং এখন তারা শহরটিকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে। ফলে পুরো কস্তিয়ানতিনিভকা কার্যত একটি “গ্রে জোনে” পরিণত হয়েছে, যেখানে কোনো পক্ষেরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।
ডনবাস অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কস্তিয়ানতিনিভকা দখল করতে পারলে রাশিয়ার জন্য ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের শেষ বড় ঘাঁটি ক্রামাতর্স্ক ও স্লোভিয়ানস্কের দিকে অগ্রসর হওয়া সহজ হবে। এটি ক্রেমলিনের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ডনবাস পুরোপুরি দখলের পথও খুলে দিতে পারে।
ইউক্রেনের ১৯তম কর্পসের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওলেক্সান্দর বাকুলিন দাবি করেছেন, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং রুশ বাহিনী উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য পায়নি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে শহরের ভেতরে অন্তত ১৩০ জন রুশ সেনা অবস্থান করছে।
মাঠপর্যায়ের ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলছেন, রুশ সেনারা ধীরে ধীরে ভবন ও গাছপালার আড়াল ব্যবহার করে অগ্রসর হচ্ছে। ড্রোন হামলার ঝুঁকি এড়াতে তারা ছোট ছোট দলে শহরের ভেতরে ঢুকে অবস্থান শক্ত করছে। একই সঙ্গে রুশ ড্রোন ইউনিটগুলো ইউক্রেনীয় ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কস্তিয়ানতিনিভকার পশ্চিমের কয়েকটি গ্রাম দখলের দাবি করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। যদিও ইউক্রেন এসব দাবির সত্যতা অস্বীকার করেছে, সামরিক বিশ্লেষকদের মতে শহরটিকে ঘিরে ফেলার রুশ কৌশল ইতোমধ্যেই কার্যকর হতে শুরু করেছে।
ইউক্রেনীয় সামরিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী ডিপস্টেট সতর্ক করে বলেছে, কস্তিয়ানতিনিভকার পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র। শহরটি হারালে পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়বে এবং ক্রামাতর্স্কে অবস্থান করাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এদিকে ইউক্রেনীয় সেনাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত জনবল ও রসদ না পাওয়ায় প্রতিরক্ষা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক ইউনিট ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় পর্যাপ্ত শক্তিবৃদ্ধি পাচ্ছে না, ফলে নতুন করে পাল্টা অভিযান পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
















