অবৈধ কর্মসংস্থান রোধে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দেশটির বৃহত্তম নগরীর কেন্দ্রাঞ্চলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকারের এই অভিযান একদিকে শ্রমবাজারে আইনের প্রয়োগ জোরদার করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসা যে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, সেই বাস্তবতাও সামনে নিয়ে এসেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, উচ্চ মজুরি, শ্রমিক সুরক্ষা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা এবং বাড়তি পরিচালন ব্যয়ের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের দিকে ঝুঁকেছে। তাদের দাবি, সীমিত আয় ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে গিয়ে তারা কম খরচের শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
অন্যদিকে সরকার বলছে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশিদের নিয়োগ দেওয়া শ্রম আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং এতে শ্রমিকদের শোষণের সুযোগ তৈরি হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে এসব শ্রমিক আইনি সুরক্ষা, চিকিৎসা সুবিধা কিংবা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হন।
দেশটিতে বেকারত্বের হার দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তরুণদের মধ্যে এই হার আরও বেশি। ফলে কর্মসংস্থান নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে এবং অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাবও জোরালো হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংগঠন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের অভিযোগ তুলে অভিযান পরিচালনা করেছে। কোথাও কোথাও এসব কর্মকাণ্ড সহিংসতায়ও রূপ নিয়েছে। সরকার যদিও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তবু একই সঙ্গে শ্রম আইন বাস্তবায়নে নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসী শ্রমিকরা শুধু শ্রমবাজারেই নয়, নগর অর্থনীতির অনানুষ্ঠানিক খাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসা, পণ্য পরিবহন এবং খুচরা বাণিজ্যের অনেক অংশ তাদের শ্রম ও উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীল।
তবে সরকার নতুন নীতিমালার মাধ্যমে অবৈধ কর্মসংস্থান নিরুৎসাহিত করতে চায়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় অবৈধ শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধু অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশের গভীর অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। তবু বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিবাসী শ্রমিকদের ঘিরে বিতর্ক দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
















