আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে জাপানকে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেছেন, নতুন কোনো যুদ্ধ ঠেকাতে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা এবং বহুমাত্রিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে শান্তিবাদী নীতির জন্য পরিচিত জাপান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এর মধ্যে অস্ত্র রপ্তানির দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং বিভিন্ন মিত্র দেশের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম সহযোগিতা সম্প্রসারণ উল্লেখযোগ্য।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশ গত কয়েক দশকে নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। তাই দেশের সংবিধানের শান্তিবাদী ধারা পুনর্বিবেচনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তার মতে, বর্তমান বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব এশিয়ায় সামরিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক বিরোধ এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিস্তার জাপানের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকার প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক সক্ষমতা উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছে।
এদিকে প্রতিবেশী বৃহৎ শক্তির ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টোকিও। তবে একই সঙ্গে সংলাপের দ্বার খোলা রাখার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে দেশটি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ সবসময় থাকা উচিত।
জাপান বর্তমানে প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, মানববিহীন যান এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পকেও নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
তবে সমালোচকদের একাংশের মতে, সংবিধান পরিবর্তন ছাড়াই দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব এবং এ বিতর্ক মূলত রাজনৈতিক। অন্যদিকে সরকারপন্থীরা মনে করেন, বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতায় আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর আধুনিকায়ন প্রয়োজন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, জাপানের প্রতিরক্ষা নীতির এই পরিবর্তন শুধু দেশটির নিরাপত্তা কৌশল নয়, পুরো পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
















