যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা এলেও লেবানন ও সিরিয়ার দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ইসরায়েল এসব এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, লেবাননের নিরাপত্তা বাফার অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী যতদিন প্রয়োজন ততদিন অবস্থান করবে। বর্তমানে ইসরায়েল লেবাননের উল্লেখযোগ্য একটি ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার আওতায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
তবে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্য চুক্তির ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই অবস্থান ইতোমধ্যেই নাজুক যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ইসরায়েল ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে। পরবর্তীতে সীমান্ত অতিক্রম করে অভিযান চালানোর মাধ্যমে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে। বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে।
নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েল ভবিষ্যতেও পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা বজায় রাখবে।
সম্প্রতি রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠে একটি হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এই হামলাকে অনেকেই চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সমঝোতা উদ্যোগ নিয়ে দুই নেতার অবস্থানে ভিন্নতা দেখা গেছে।
দেশটির ডানপন্থী রাজনৈতিক মহল এবং বিরোধী শিবিরের একাংশ মনে করছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান হলে লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় চলমান সামরিক উপস্থিতি নিয়েও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, সব বিষয়ে তার সঙ্গে ট্রাম্পের একমত হওয়া জরুরি নয়। তবে তিনি ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না এবং সাম্প্রতিক সংঘাত ইসরায়েলের জন্য কৌশলগত সাফল্য বয়ে এনেছে।
এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীও ঘোষণা দেন, লেবানন, সিরিয়া এবং গাজায় দখলকৃত নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী অনির্দিষ্টকাল অবস্থান করবে। সীমান্ত ও জনপদ রক্ষার স্বার্থে এই নীতি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।















