ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতার খবরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বিশ্ববাজার। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসার প্রত্যাশায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারসূচকগুলোতে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে।
সোমবার লেনদেন শেষে দেশটির অন্যতম প্রধান শেয়ারসূচক প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে সূচকটি আবারও সর্বকালের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
প্রযুক্তিনির্ভর আরেকটি প্রধান সূচক ৩ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বড় ভূমিকা রেখেছে মহাকাশ প্রযুক্তিভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি। প্রতিষ্ঠানটির বাজারে অভিষেকের পর শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, শিল্পপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রধান সূচকও ৯ দশমিক শূন্য শতাংশ নয়, বরং প্রায় ০ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বহুল ব্যবহৃত মানদণ্ড অনুযায়ী তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৮৩ ডলারের সামান্য ওপরে নেমে এসেছে। সংঘাত শুরুর পর এটিই সর্বনিম্ন মূল্য।
এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজারে সোমবার তুলনামূলক স্থিরতা দেখা গেলেও আগের দিন সমঝোতার ঘোষণার পর বড় ধরনের উত্থান হয়েছিল। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও হংকংয়ের প্রধান সূচকগুলোতে সামান্য ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের সামনে দুটি বিষয় বড় প্রভাব ফেলছিল—প্রযুক্তিখাতে শক্তিশালী বিনিয়োগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত। সংঘাত কমে আসার ইঙ্গিত পাওয়ায় এখন বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে আরও আগ্রহী হচ্ছেন।
তবে জ্বালানি বাজারে পূর্ণ স্বাভাবিকতা ফিরতে এখনও সময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথজুড়ে বিপুলসংখ্যক জাহাজের অপেক্ষা এবং নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কারণে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন খাতের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৫০০ জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ওই জলপথ অতিক্রমের অপেক্ষায় রয়েছে। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
















