মাসের পর মাস ধরে চলমান যুদ্ধ, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে মানুষ প্রতিদিনের জীবনযাত্রা চালিয়ে গেলেও যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকট তাদের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
তেহরানের অনেক বাসিন্দা বলছেন, বিস্ফোরণের শব্দ ও নিরাপত্তা শঙ্কা এখন তাদের দৈনন্দিন বাস্তবতার অংশ হয়ে গেছে। যদিও কাজকর্ম ও স্বাভাবিক জীবন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তবুও তারা মনে করেন বর্তমান পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলা যায় না।
অর্থনৈতিক সংকটও ক্রমেই গভীর হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই আগের মতো ব্যবসা চালাতে পারছেন না। কিছু প্রতিষ্ঠানকে বিক্রয় তালিকা থেকে বিভিন্ন পণ্য বাদ দিতে হয়েছে। বাজারে ক্রেতার চাহিদাও কমেছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। খাদ্যপণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। রান্নার তেল, ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এদিকে ইন্টারনেট ব্যবস্থাও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে আবারও ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। যদিও পূর্ণাঙ্গ বন্ধের ঘটনা ঘটেনি, তবে ব্যবহারকারীরা এখনো ধীরগতির সংযোগ ও নানা বিধিনিষেধের মুখোমুখি হচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, অর্থনৈতিক অবরোধ এবং অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, আয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর।
অন্যদিকে রাতের বেলায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সরকারপন্থী সমাবেশও দেখা যাচ্ছে। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন এবং চলমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন।
















