মার্কিন সামরিক হামলার জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বাহিনীটি জানায়, ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাহরাইনে মার্কিন নৌবহরের ঘাঁটি, কুয়েতে একটি বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে চারটি ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক এলাকায় ইরানের কয়েকটি বন্দর ও দ্বীপে মার্কিন হামলার পর। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনায় তেহরানের ভূমিকা রয়েছে।
ইরানি বাহিনী দাবি করেছে, মার্কিন হামলায় উপকূলীয় একটি শহরে যোগাযোগ অবকাঠামো ও পানির সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে আরও কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার কঠোর ও চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমার দিকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের ফলে কিছু ধ্বংসাবশেষ ভূমিতে পড়লেও কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েতের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা শত্রুতাপূর্ণ উড়ন্ত বস্তু প্রতিহত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যেকোনো সামরিক আক্রমণের দ্রুত ও কঠোর জবাব দেওয়ার নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে তেহরান। তবে একই সঙ্গে উভয় পক্ষই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এড়িয়ে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চাইছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনার ঘটনায় ইরান ও ইসরায়েলও পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়ে। চলমান সংকট বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং খাদ্যদ্রব্যের দামের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তবে পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সামরিক উত্তেজনা শান্তি আলোচনার পথকে আরও জটিল করে তুলছে।
















