কেনিয়ায় আনুষ্ঠানিক চাকরির সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেক তরুণ স্নাতক কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। তবে তারা শুধু প্রচলিত কৃষিকাজেই সীমাবদ্ধ নন; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মোবাইল অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আধুনিক কৃষিকে লাভজনক ব্যবসায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
পশ্চিম কেনিয়ার কেরিচো কাউন্টির ৩৩ বছর বয়সী চেপকোরির রোটিচ কলেজ শেষ করার পর ব্যবসা প্রশাসনে চাকরি পাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন চাকরি খুঁজেও সফল না হওয়ায় তিনি কৃষিকাজে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি গরু, মুরগি ও সবজি চাষ করে আয় করছেন। ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে নিজের পণ্য বিক্রির পাশাপাশি কৃষি–বিষয়ক অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন।
রোটিচের মতে, অনেকেই মনে করেন কৃষিকাজ শুধু বয়স্কদের পেশা। কিন্তু বাস্তবে তরুণদের জন্যও কৃষিতে বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, জমি না থাকলেও ছোট পরিসর থেকে শুরু করা সম্ভব। একসময় ভাড়া বাসার আঙিনায় চাষ করে তিনি এত আয় করেছিলেন যে বাড়িওয়ালাই তার কাছে দেনাদার হয়ে পড়েছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষ হওয়ায় তরুণরাই আধুনিক কৃষিতে সবচেয়ে বেশি সফল হতে পারেন। এ কারণে কেনিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কৃষি ও এআই–ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করছে, যাতে তরুণরা তথ্যভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন।
৩২ বছর বয়সী তথ্যপ্রযুক্তি স্নাতক জিওফ্রে কিপরপও চাকরি না পেয়ে কৃষিকাজে যুক্ত হয়েছেন। তিনি গরু, মুরগি, চা, কফি, বাঁধাকপি ও বিভিন্ন ফসল চাষ করেন। কৃষিকাজে তিনি একাধিক এআইভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহার করেন, যা রোগ শনাক্তকরণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং মাটির পুষ্টি বিশ্লেষণে সহায়তা করে।
কিপরপ জানান, Plantix অ্যাপের মাধ্যমে তিনি ফসলের ছবি তুলে রোগ বা পুষ্টির ঘাটতি শনাক্ত করেন। এছাড়া Virtual Agronomist নামের একটি এআই প্ল্যাটফর্ম জমির তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন পুষ্টি উপাদান কতটা প্রয়োজন, সে বিষয়ে পরামর্শ দেয়। দুগ্ধ খামার পরিচালনায় তিনি DigiCow অ্যাপ ব্যবহার করেন, যা দুধ উৎপাদন, খরচ ও লাভের হিসাব রাখতে সাহায্য করে।
তবে কৃষিতে সফল হতে ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা জরুরি বলে মনে করেন রোটিচ ও কিপরপ। তাদের মতে, অনেক তরুণ দ্রুত লাভের আশা করে মাঝপথে হাল ছেড়ে দেন। কিন্তু নিয়মিত পরিশ্রম ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করলে কৃষিও লাভজনক ও টেকসই পেশা হতে পারে।
















