পেরুর রাজনীতিতে গত তিন দশকের অন্যতম পরিচিত মুখ কেইকো ফুজিমোরি। সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির মেয়ে কেইকো এবার চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অতীতের তিনটি নির্বাচনে রানঅফে পরাজিত হলেও এবার তাকে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে দেখা যাচ্ছে।
১৯৯৪ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বাবা–মায়ের বিচ্ছেদের পর কেইকো দেশের ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকেই তিনি জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। সময়ের সঙ্গে তিনি পেরুর অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ফুয়ের্সা পপুলারের নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং বিরোধী রাজনীতির শক্তিশালী মুখ হয়ে ওঠেন।
তবে প্রেসিডেন্ট পদ তার জন্য অধরাই থেকে গেছে। ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি রানঅফ পর্যন্ত পৌঁছেও জয় পাননি। সমালোচকদের মতে, তার জনপ্রিয়তা সীমিত এবং বাবার বিতর্কিত শাসনের উত্তরাধিকার এখনও তাকে তাড়া করে বেড়ায়।
আলবার্তো ফুজিমোরিকে অনেক পেরুভিয়ান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা ও বিদ্রোহ দমনের জন্য কৃতিত্ব দিলেও মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং আদিবাসী নারীদের জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে তিনি কারাদণ্ড ভোগ করেন এবং ২০২৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
কেইকো একদিকে বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে কাজে লাগিয়েছেন, অন্যদিকে মাঝে মাঝে তার শাসনামলের কিছু অপরাধের কথাও স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বরাবরই বাবার মুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনেও বিতর্ক থেকে মুক্ত নন কেইকো। অর্থপাচারের একটি মামলায় তিনি তিনবার বিচারপূর্ব আটক হয়েছিলেন, যদিও পরে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। এছাড়া ২০২১ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ভোট জালিয়াতির ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ফলাফল চ্যালেঞ্জ করেছিলেন তিনি।
এবারের নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বামপন্থী রাজনীতিক রবার্তো সানচেজ। সাম্প্রতিক জরিপে দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ডানপন্থী ভোটারদের সমর্থন কেইকোর জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
অনেক ভোটারের কাছে কেইকো স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আবার সমালোচকদের আশঙ্কা, তিনি ক্ষমতায় এলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হতে পারে এবং অতীতের কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেইকো ফুজিমোরি জিতলে হয়তো পূর্ণ মেয়াদ শেষ করার মতো শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তি তার থাকবে। তবে তিনি জয়ী হোন বা না হোন, ফুজিমোরি পরিবারের প্রভাব পেরুর রাজনীতিতে এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হয়ে আছে।
















