ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে প্রথমবারের মতো রাস্তায় নেমেছে তরুণদের নতুন আন্দোলন ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া ব্যঙ্গাত্মক এই উদ্যোগ এখন বাস্তব রাজনৈতিক প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে।
মধ্য ভারতের একটি গ্রাম থেকে ১৭ বছর বয়সী সৌরভ কুশওয়াহা বড় ভাইকে সঙ্গে নিয়ে রাতভর ট্রেনে করে দিল্লিতে পৌঁছান। তাঁর মতো শত শত তরুণ রাজধানীর নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলে জড়ো হন আন্দোলনের মুখপাত্র অভিজিৎ দীপকের আহ্বানে।
ভারতের তরুণদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ জমে আছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষার ফল প্রকাশে অসঙ্গতি এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক সেই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যে তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করা হলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এরপর অভিজিৎ দীপক প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি সব তেলাপোকা একসঙ্গে হয়?’ সেই মন্তব্য থেকেই আন্দোলনের সূচনা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির নামের অনুকরণে গঠিত হয় ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির অনুসারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং তা কয়েক কোটিতে পৌঁছে যায়।
শনিবারের সমাবেশে অভিজিৎ দীপক বলেন, সরকারের প্রতি তাদের বার্তা পরিষ্কার—শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে আন্দোলন চলবে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা বারবার ঘটলেও রাজনৈতিকভাবে কেউ দায় নিচ্ছেন না।
সৌরভ কুশওয়াহা বলেন, তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন কি না তা নিশ্চিত নন, তবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার সাধারণ মানুষের সমস্যার প্রতি উদাসীন আচরণ করছে বলেই তাঁর মনে হয়।
প্রতিবাদকারীদের অনেকে তেলাপোকার মুখোশ পরে সমাবেশে অংশ নেন। কেউ ফুল নিয়ে আসেন, কেউ বই হাতে নিয়ে উপস্থিত হন। আন্দোলনের প্রতীকী বার্তা ছিল—তরুণদের কণ্ঠস্বরকে অবহেলা করা যাবে না।
আরেক অংশগ্রহণকারী মোহাম্মদ আফতাব জানান, আর্থিক সংকটের কারণে তিনি নিজের পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। বর্তমানে জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন পণ্য সরবরাহের কাজ করেন। একদিন কাজ না করলে খাবারের টাকাও জোটে না, তবু শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানাতে তিনি সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।
এদিকে আন্দোলন নিয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
সমাবেশস্থলে দায়িত্ব পালনকারী এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তাঁর মেয়েও আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের উদ্বেগকে তিনি অস্বাভাবিক মনে করেন না। তাঁর ভাষায়, কখনো কখনো মানুষের রাস্তায় নামার প্রয়োজন হয়।
















