মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ৫৯তম দিনে ইরান কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের অবসান নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আঞ্চলিক সমর্থন জোগাড়ে পাকিস্তান ও ওমান সফর শেষে রাশিয়ায় পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি ভ্লাদিমির পুতিন এর সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান চাইলে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করতে পারে। তিনি ইসলামাবাদ সফরের পরিকল্পনা বাতিল করলেও আলোচনার দরজা খোলা রেখেছেন।
সংঘাতের প্রধান দুটি জটিল বিষয় হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী এর নিয়ন্ত্রণ, যা বর্তমানে কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা
ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। পাকিস্তানে বৈঠকগুলোও ইতিবাচক হয়েছে বলে জানিয়েছেন আরাঘচি। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার শর্ত নিয়েও পর্যালোচনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি একটি সমাধানের কাঠামো তৈরির দিকে এগোচ্ছে, যেখানে শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকেও সতর্ক বার্তা এসেছে। ভিয়েনায় নিযুক্ত রুশ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আলোচনা এগিয়ে নিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ ও হুমকির কৌশল পরিহার করতে হবে।
ইরানের অবস্থান
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না। তাদের মতে, এই জলপথের নিয়ন্ত্রণই তাদের কৌশলগত শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
হোয়াইট হাউসে এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটনে সাম্প্রতিক গুলির ঘটনা তাকে যুদ্ধের লক্ষ্য থেকে সরাতে পারবে না। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না, তবে আলোচনা সম্ভব।
লেবাননের পরিস্থিতি
এদিকে লেবানন এ ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও হামলা অব্যাহত থাকায় উত্তেজনা বাড়ছে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলের ধারাবাহিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই তারা পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান এখনও অনিশ্চিত, এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
















