পশ্চিম আফ্রিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন উপনিবেশবিরোধী কর্মী কেমি সেবা। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা-তে আটক রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি জিম্বাবুয়ে হয়ে ইউরোপে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।
৪৫ বছর বয়সী এই কর্মীকে বেনিন সরকার খুঁজছে “বিদ্রোহে উসকানি” দেওয়ার অভিযোগে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় সমর্থন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ফ্রান্সবিরোধী অবস্থান, পশ্চিম আফ্রিকার সামরিক শাসকদের প্রতি সমর্থন এবং রাশিয়াপন্থী প্রচারের কারণে কেমি সেবা দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। তার প্রকৃত নাম স্টেলিও জিল রবার্ট কাপো চিকি। তিনি স্ট্রাসবুর্গ শহরে জন্মগ্রহণ করেন, যদিও তার পারিবারিক শিকড় বেনিনে।
কৈশোরে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-এ গিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রভাবে আসেন। পরে ফ্রান্সে ফিরে এসে একই আদর্শ প্রচার শুরু করেন।
২০০৪ সালে তিনি একটি সংগঠন গঠন করেন, যা পরবর্তীতে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে নিষিদ্ধ হয়। এরপর একাধিকবার তাকে গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে তিনি সেনেগাল-এ যান এবং সেখান থেকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করেন। ২০১৫ সালে তিনি ‘প্যান-আফ্রিকানিস্ট এমার্জেন্সি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যা আফ্রিকার সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করার দাবি করে।
কেমি সেবা বিশেষভাবে বিরোধিতা করেন সিএফএ ফ্রাঁ মুদ্রার, যা এখনও ১৪টি আফ্রিকান দেশে ব্যবহৃত হয় এবং ফ্রান্সের অর্থনৈতিক প্রভাবের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। ২০১৭ সালে সেনেগালে এক বিক্ষোভে তিনি প্রকাশ্যে এই মুদ্রা পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিভিন্ন দেশে তার কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। টোগো, গিনি এবং আইভরি কোস্ট থেকে তাকে বিতাড়িত করা হয়।
২০২৪ সালে ফ্রান্স তার নাগরিকত্ব বাতিল করে। পরে নাইজার তাকে কূটনৈতিক পাসপোর্ট দেয় এবং সামরিক নেতৃত্বের বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম আফ্রিকায় সাম্প্রতিক সামরিক অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে কেমি সেবা আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে ফ্রান্সবিরোধী মনোভাব এবং বিকল্প শক্তি হিসেবে রাশিয়ার প্রতি ঝোঁকের কারণে তার জনপ্রিয়তা বেড়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় তাকে আটক করা হয়েছে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে। তার বিরুদ্ধে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এদিকে তার সংগঠন দাবি করেছে, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার কর্মকাণ্ড দমন করার চেষ্টা। তবে বেনিন সরকার তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রস্তুত করছে বলে জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে কেমি সেবা এখন শুধু একজন কর্মী নন, বরং পশ্চিম আফ্রিকার ভূরাজনীতিতে এক বিতর্কিত ও প্রভাবশালী চরিত্র হিসেবে উঠে এসেছেন।
















