যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ঘনিয়ে আসায় ইরানের বন্দর নিয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্তের মুখে নয়াদিল্লি
ভারত ইরানের চাবাহার বন্দর-এ নিজের বিনিয়োগ নিয়ে নতুন করে ভাবছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে।
সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রায় ১২ কোটি ডলারের এই বিনিয়োগ কীভাবে বজায় রাখা যায়, তা নিয়ে ভারত একদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যদিকে ইরান-এর সঙ্গে আলাদা আলোচনা চালাচ্ছে।
একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা হিসেবে অস্থায়ীভাবে এই বিনিয়োগ ইরানের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ভারত পুরোপুরি এই বন্দর ছাড়ার পরিকল্পনা করছে না, কারণ ভবিষ্যতে রেল সংযোগসহ অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২৬ এপ্রিল। আগে আশা করা হচ্ছিল এটি বাড়ানো হতে পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় সেই সম্ভাবনা কমে গেছে। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
ভারত ২০২৪ সালে ইরানের বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ১০ বছরের একটি চুক্তি করে। এর লক্ষ্য ছিল আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানো এবং পাকিস্তান-কে পাশ কাটিয়ে বিকল্প বাণিজ্যপথ তৈরি করা।
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার ভারতের জন্য এই বন্দরে কাজ করার অনুমতি দিয়েছিল, কিন্তু ২০২৫ সালে তা বাতিল হয়। পরে আবার সীমিত সময়ের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়, যা এখন শেষ হতে চলেছে।
এই বন্দরটি বৃহত্তর উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোর-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।
এছাড়া, ২০১৮ সাল থেকে ভারত এই বন্দর ব্যবহার করে আফগানিস্তানে ৪০ লাখ টনের বেশি খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি একদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে পুরনো কৌশলগত সম্পর্ক ধরে রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা ভারতের জন্য বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে, কারণ দেশটি এই পথের ওপর জ্বালানি সরবরাহের জন্য অনেকটাই নির্ভরশীল।
















