প্রাণীর সুরক্ষা ও দায়িত্বশীল পর্যটনের জন্য নতুন নিয়ম, বদলাচ্ছে ভ্রমণের ধারণা
বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতা এখন শুধু দেখা নয়—অনেকে সেটিকে ক্যামেরাবন্দি করার প্রতিযোগিতায় পরিণত করেছেন। আর সেই প্রবণতাই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে প্রাণী ও মানুষের জন্য। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে নতুন নিয়ন্ত্রণ।
ভারত-এ সাম্প্রতিক এক আদালতের রায়ে টাইগার রিজার্ভের মূল এলাকায় সাফারির সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পর্যটকদের ফোন জমা রাখতে বা ব্যাগে রেখে সাইলেন্ট করতে বলা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একাধিক উদ্বেগজনক ঘটনা। রনথম্ভোর জাতীয় উদ্যান-এ ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাঘকে ঘিরে ধরে বহু গাড়ি, আর পর্যটকেরা ছবি তুলতে ব্যস্ত—যা প্রাণীটিকে আতঙ্কিত করে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “সাফারি জ্যাম” এখন বড় সমস্যা—যেখানে একাধিক গাড়ি একটি প্রাণীকে ঘিরে ফেলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় লোকেশন শেয়ার করার ফলে নির্দিষ্ট জায়গায় ভিড় বেড়ে যাচ্ছে।
ভারতে বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ বন্য বাঘ রয়েছে, এবং গত এক দশকে তাদের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু সেই সঙ্গে বেড়েছে পর্যটকের চাপও। গত পাঁচ বছরে বাঘের কারণে শত শত দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
নতুন নিয়মগুলো শুধু মোবাইল নিষেধাজ্ঞায় সীমাবদ্ধ নয়—
- রাতে সাফারি বন্ধ
- সংরক্ষিত এলাকার আশেপাশে নির্মাণে নিয়ন্ত্রণ
- টেকসই পর্যটনের ওপর জোর
এই পরিবর্তনের মূল বার্তা স্পষ্ট: সংরক্ষণ আগে, পর্যটন পরে।
এ প্রবণতা শুধু ভারতে নয়, বিশ্বজুড়েই দেখা যাচ্ছে। কেনিয়া-তে পর্যটকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধি চালু হয়েছে, সভালবার্ড অঞ্চলে মেরু ভালুক দেখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, আর শ্রীলঙ্কা-তেও জাতীয় উদ্যানগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল শুধু মোবাইল নয়—বরং পর্যটকদের মানসিকতা। অনেকেই বন্যপ্রাণীকে কাছ থেকে দেখার বা “পারফেক্ট ছবি” তোলার চাপ তৈরি করেন, যা গাইডদের ওপরও প্রভাব ফেলে।
এখন প্রশ্ন উঠছে—সাফারির আসল উদ্দেশ্য কী?
অনেকে বলছেন, বাঘ দেখাই সব নয়। বন, পাখি, প্রকৃতি—পুরো বাস্তুতন্ত্রকে উপভোগ করাই আসল অভিজ্ঞতা।
নতুন নিয়মে হয়তো ছবি কম হবে, কিন্তু নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ বাড়বে। শেষ পর্যন্ত, বন্যপ্রাণী পর্যটনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য ছবি তোলা নয়—বরং সেই মুহূর্তে উপস্থিত থাকা।
















