রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কোটি ডলারের প্রকল্প ভেঙে পড়ার মুখে, বাড়ছে হিমবাহ-সৃষ্ট বন্যার আশঙ্কা
নেপালের এভারেস্ট অঞ্চল-এ স্থাপিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আগাম বন্যা সতর্কতা ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে স্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে হাজারো মানুষ ও পর্যটক এখন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে কোনো ধরনের পরিদর্শন বা রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। ফলে সতর্কতামূলক সাইরেন টাওয়ারগুলো মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে, অনেক জায়গায় ব্যাটারিও চুরি হয়ে গেছে।
এই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল ইমজা হিমবাহ হ্রদ-এর সম্ভাব্য ভয়াবহ বন্যা থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য। প্রায় এক দশক আগে এই হ্রদের পানি কমিয়ে ঝুঁকি কমানো হয়েছিল। কিন্তু এখন আবার নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলছে, ফলে হিমবাহ-হ্রদগুলো বড় হচ্ছে এবং যেকোনো সময় ভেঙে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।
স্থানীয় শেরপা সম্প্রদায়ের মানুষজন জানিয়েছেন, তাদের বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে প্রতি বছর এই সতর্কতা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে। কিন্তু বাস্তবে কেউ আসেনি।
ফলে যদি হ্রদ ভেঙে বন্যা আসে, আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
এদিকে, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে হ্রদের পানির স্তরের তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাও ঠিকমতো কাজ করছে না। ফলে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানোও সম্ভব হচ্ছে না।
এই অঞ্চলে অন্তত ছয়টি গ্রাম এবং প্রতি বছর আসা প্রায় ৬০ হাজার পর্যটক সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাজেটের অভাব এবং অন্যান্য প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের কারণে এই ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব হয়নি। তবে এখন নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ গলার হার গত দুই দশকে দ্বিগুণ হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষায়, কোটি কোটি টাকা খরচ করেও প্রকল্পটি এখন কার্যত “চোখে ধুলো দেওয়া”—কারণ বাস্তবে তারা প্রতিদিনই জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন।
















