চলচ্চিত্র, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অনন্য অবদান রেখে গেছেন এই কিংবদন্তি নির্মাতা
বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে এখনও প্রাসঙ্গিক তাঁর সৃষ্টিকর্ম
সত্যজিৎ রায় ছিলেন একজন লেখক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। বাংলা ভাষাভাষী সমাজ এবং ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি স্বীকৃত হলেও বিশ্বজুড়ে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত একজন চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে।
চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। একই সঙ্গে একজন লেখক হিসেবেও তিনি ছিলেন সমানভাবে সম্মানিত। তাঁর সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদা আজও পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পড়া হয়ে আসছে।
বিশ্ব সিনেমার বিশ শতকের অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়। তাঁর আগে উপমহাদেশে সিনেমাকে শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম হিসেবে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না। তাঁর কাজ সেই ধারণা বদলে দেয়। ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
১৯২১ সালের ২ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন সত্যজিৎ রায়। বর্তমান বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে তাঁর পৈতৃক বাড়ি অবস্থিত। তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, লেখক, সুরকার ও গীতিকার হিসেবে কাজ করেছেন।
“পথের পাঁচালী” চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের সূচনা হয়। এরপর তিনি নির্মাণ করেন “অপরাজিত”, “অপুর সংসার”, “পরশ পাথর”, “জলসাঘর”, “মহানগর”, “চারুলতা”, “গুপী গাইন বাঘা বাইন”, “অরণ্যের দিনরাত্রি”, “সীমাবদ্ধ”, “অশনি সংকেত”, “সোনার কেল্লা”, “জনঅরণ্য”, “শতরঞ্জ কি খেলাড়ি”, “জয় বাবা ফেলুনাথ”, “হীরক রাজার দেশে”, “ঘরে বাইরে”, “গণশত্রু”, “শাখা প্রশাখা” এবং তাঁর শেষ চলচ্চিত্র “অগন্তুক”।
চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি দেশ-বিদেশে বহু পুরস্কার লাভ করেন। আজীবন সম্মাননা হিসেবে তিনি একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন, যা এর আগে চার্লি চ্যাপলিনকেও দেওয়া হয়েছিল।
১৯৮৭ সালে ফ্রান্স সরকার তাকে লিজিয়ন অব অনার প্রদান করে। ১৯৮৫ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পান। মৃত্যুর অল্প কিছুদিন আগে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ভারতরত্নে ভূষিত হন। মৃত্যুর পর তিনি আকিরা কুরোসাওয়া পুরস্কারও লাভ করেন।
সত্যজিৎ রায়ের কাজ আজও বিশ্বজুড়ে নির্মাতা ও শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে। চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তিনি এক অবিস্মরণীয় প্রতীক হয়ে আছেন।















