মেক্সিকোর ঐতিহাসিক প্রত্নস্থল তেওতিহুয়াকান-এ গুলিবর্ষণকারী হামলাকারীর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্কুলে সংঘটিত গণহত্যা-সম্পর্কিত নথি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম বলেন, হামলাকারী মানসিক সমস্যায় ভুগছিল এবং বিদেশে সংঘটিত সহিংস ঘটনার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল।
২৭ বছর বয়সী হামলাকারী হুলিও সেসার জাসো রামিরেজের কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, বহু গুলি, একটি ছুরি এবং সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নথি পাওয়া যায়। তিনি একাই এই হামলা চালান বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা। পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের পর তিনি নিজেই আত্মহত্যা করেন।
এই হামলায় এক কানাডীয় নারী নিহত হন এবং অন্তত ১৩ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ। আহতদের মধ্যে শিশু ও বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছে।
তদন্তকারীরা জানান, হামলাকারীর কাছে ১৯৯৯ সালের যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বাইন স্কুল হামলা-সংক্রান্ত লেখা ও ছবি পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার সময় তিনি ওই ঘটনার উল্লেখও করেন।
ঘটনার দিন তিনি দুপুরের আগে ওই প্রত্নস্থলে পৌঁছে পিরামিডে উঠে যান এবং সেখান থেকে গুলি চালাতে শুরু করেন। পর্যটকদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি হুমকি দিচ্ছেন এবং লোকজন নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পিরামিডে উঠে তাকে ঘিরে ফেলেন। তিনি মোট ১৪ রাউন্ড গুলি চালান। পরে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে তিনি নিজেই নিজের জীবন নেন।
ঘটনার পর তেওতিহুয়াকান এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এই প্রত্নস্থলটি প্রতিবছর প্রায় ১৮ লাখ পর্যটক আকর্ষণ করে এবং এটি বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা জোরদার করে স্থানটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। প্রবেশপথে ধাতব শনাক্তকারী বসানোসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারের কথাও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক এই আয়োজন ঘিরে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় এক কোটি ষাট লাখ বিদেশি পর্যটক মেক্সিকো সফর করেছেন।
















