ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে জেট জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অবরোধের ফলে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
ইউরোপীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো সরাসরি জেট জ্বালানির ঘাটতি দেখা যায়নি এবং বড় পরিসরে ফ্লাইট বাতিলের সম্ভাবনাও নেই। তবে পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশন নতুন করে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি জরুরি মজুদ বাড়ানো এবং ন্যূনতম সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, সরবরাহ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন স্বাভাবিক না হলে ইউরোপে জেট জ্বালানির মজুদ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফুরিয়ে যেতে পারে।
যদিও ইউরোপে বর্তমানে কিছু মজুদ রয়েছে, তবুও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে কিছু বিমান সংস্থা ফ্লাইট কমিয়েছে বা অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করেছে।
পরিবহন কমিশনার অ্যাপোস্টোলস তজিৎসিকোস্তাস জানিয়েছেন, বাজার এখনো পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে এবং সরবরাহে বড় কোনো বাধা দেখা যায়নি। তবে ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ইউরোপ তার মোট জেট জ্বালানির একটি বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যার উল্লেখযোগ্য অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা সরাসরি ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলছে।
এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি নতুন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছে, যাতে জ্বালানি সরবরাহের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা যায়।
সব মিলিয়ে, এখনো বড় সংকট না দেখা গেলেও পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ইউরোপের বিমান চলাচল খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
















