আয়কর নথি তলব: নিক্সন চৌধুরী ও তার স্ত্রীর নথি সিআইডিকে দেওয়ার নির্দেশ আদালতের
ঢাকা, ৪ নভেম্বর, ২০২৫
ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরী এবং তাঁর স্ত্রী তারিন হোসেনের আয়কর নথির কপি অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) সরবরাহ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি এবং অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) আদালত এই নির্দেশনা দেন।
অবৈধ সম্পদ ক্রোকের আদেশ
আদালতের এই নতুন আদেশের আগে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তারিন হোসেনের নামে থাকা সম্পত্তির ক্রোকের (জব্দ) আদেশ দেন। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত একটি ফ্ল্যাট, গ্যারেজ এবং কমনস্পেস।
দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালামের আবেদনে বলা হয়েছিল, মজিবুর রহমান চৌধুরীর স্ত্রী তারিন হোসেনের নামে মোট ১০ কোটি ৩২ লাখ ৮৬ হাজার ৪৩৮ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে জানা যায়, গুলশান আবাসিক এলাকায় অবস্থিত একটি ১৩ তলা ভবনের ৭ম তলার ৫ হাজার ১৭২ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট নিক্সন চৌধুরী তাঁর অর্জিত অবৈধ অর্থ দিয়ে ক্রয় করেন এবং পরবর্তীতে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী তারিন হোসেনের নামে রেজিস্ট্রেশন করেন।
দুদক অনুসন্ধান শুরু করার পর তারিন হোসেন এসব সম্পদ হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন— এই যুক্তিতে সম্পদগুলো ক্রোক করার আবেদন করেছিল দুদক।
মামলা ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
এর আগে, গত ৯ জানুয়ারি নিক্সন চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী তারিন হোসেনের বিরুদ্ধে দুদক পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। মামলা দুটিতে তাঁদের ব্যাংক হিসাবে তিন হাজার ১৬২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন এবং প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
এই মামলাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালত নিক্সন চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী তারিন হোসেনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। বর্তমানে আয়কর নথি তলবের এই আদেশ তদন্তের ক্ষেত্রে সিআইডিকে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের সুযোগ দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
















