নরসিংদীতে চরম আর্থিক সংকটে থাকা আজহারুল ইসলাম (২৫) নামে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যুবকের কর্মসংস্থান ও আয়ের পথ নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া। তিনি আজহারুলের দোকানে নতুন করে পুঁজির সংস্থান করে দিয়েছেন।
আজহারুল ইসলাম নরসিংদীর পলাশ উপজেলার মাঝেরচর গ্রামের দিনমজুর মাজহারুল ইসলামের ছেলে। তার বাবা জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। এমনকি আজহারুলের পরিবারের চারজন পুরুষ সদস্যই শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেন। চরম অভাব-অনটনের মাঝে বড় হওয়া আজহারুল নিজেও জন্ম থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট রয়েছে। স্বল্প দৃষ্টিশক্তি নিয়েই তিনি দৈনন্দিন চলাফেরা করেন।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলিয়া মাদরাসায় কিছুদিন পড়াশোনা করলেও আজহারুলের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সনদ অর্জন করা সম্ভব হয়নি। বয়স ২০ পার হওয়ার পর পরিবারের উদ্যোগে তাকে বিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তার আনিফা (৪) নামের এক মেয়ে এবং আশফাক (দেড় বছর) নামের এক ছেলেসন্তান রয়েছে।
সংসার চালাতে আজহারুল বাড়ির পাশে একটি স্কুলের ধারে ছোট একটি টং দোকান দিয়ে শিশুদের খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করতেন। তবে ছোট ছেলে আশফাকের জন্মের সময় চিকিৎসার খরচে দোকানের পুরো পুঁজি শেষ হয়ে যায়। এতে পণ্যহীন খালি দোকান নিয়েই তাকে অলস সময় পার করতে হতো। পরবর্তীতে এক পথচারীর দেওয়া মাত্র এক হাজার টাকা দিয়ে দোকানে সামান্য কিছু মালামাল তুললেও সংসারের খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
এক গণমাধ্যমকর্মীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া তাৎক্ষণিকভাবে আজহারুলের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। তিনি আজহারুলকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ডেকে পাঠান এবং তার মুখে কষ্টের গল্প শুনে দোকানের পুঁজি পুনর্গঠনের জন্য নগদ অর্থের চেক তুলে দেন।
সহযোগিতা পেয়ে আবেগাপ্লুত আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমার দ্বিতীয় সন্তান হওয়ার সময় চিকিৎসার খরচে দোকানের সব পুঁজি শেষ হয়ে যায়। খালি দোকান নিয়ে বসে নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতাম। জেলা প্রশাসক মহোদয় যেভাবে আমাকে অর্থসহায়তা দিয়ে আয়ের ব্যবস্থা করে দিলেন, তাতে আমি অনেক খুশি। এই সাহায্যে আমার সংসার আবার ঘুরে দাঁড়াবে।’
জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া জানান, বিষয়টি যেমন মানবিক, তেমনি নাগরিকের প্রতি তাদের দায়িত্বের একটি অংশ। এক সাংবাদিকের মাধ্যমে খবর পেয়ে তার দোকানের জন্য পুঁজির সংস্থান করা হয়েছে।






















