এনসিপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা
ঢাকা, নভেম্বর ৩, ২০২৫
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক (পদ সাময়িক স্থগিত) হাফেজ মুনতাসির মাহমুদ নিজ দলের বিরুদ্ধে দেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা, অসততা ও ভণ্ডামির গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। রবিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিযোগগুলি প্রকাশ্যে আনেন।
সমকামী অ্যাক্টিভিস্টকে দলে রাখা নিয়ে বিতর্ক
হাফেজ মুনতাসির মাহমুদ তার অভিযোগে সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি তুলে ধরেন, তা হলো:
- দল ঘোষণার দিন এনসিপি’র যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে মুনতাসির রহমান নামে একজন এলজিবিটিকিউ অ্যাক্টিভিস্টের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল।
- দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন নিজে মঞ্চে এই নাম ঘোষণা করেছিলেন।
- মুনতাসির মাহমুদ প্রশ্ন তোলেন, “কেন তারা একজন সমকামী/গে অ্যাক্টিভিস্টকে দলে রাখল, এই বিষয়ে তাদের দলীয় স্ট্যান্ড কী, সেটা এনসিপি কখনো পরিস্কার করেনি বরং প্রশ্ন উঠলেই মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।”
নিজের পরিচয় বিভ্রাট ও জীবনের হুমকি
হাফেজ মুনতাসির মাহমুদের অভিযোগ, এলজিবিটিকিউ অ্যাক্টিভিস্টের নাম ঘোষণার পর তার এবং অ্যাক্টিভিস্ট মুনতাসির রহমানের মধ্যে পরিচয় বিভ্রাট সৃষ্টি হয়। এর ফলে তিনি নিজে চরম হয়রানির শিকার হন:
- তাকে (হাফেজ মুনতাসির মাহমুদ, যিনি কুরআনে হাফেজ এবং ঢাকা-১২ আসন থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন) দলের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি দিয়ে আলাদা করে চিহ্নিত করা হয়নি।
- তিনি বলেন, দলের সর্বোচ্চ নেতাদের কাছে বারবার বলার পরেও “কিছু নেতার নোংরা মানসিকতা এবং সংকীর্ণতার কারণে” তারা এই পরিচয় বিভ্রাট দূর করতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
- তিনি অভিযোগ করেন, এই জঘন্য মিথ্যা অপবাদ ও সংকীর্ণতার জন্য এনসিপি’র ওই নেতারাই ১০০ ভাগ দায়ী এবং এর ফলে তার জীবন হুমকির মধ্যে পড়েছে।
দুই মুনতাসিরের প্রতি ‘চরম অন্যায়’
এনসিপির এই নেতা দাবি করেন, এই ঘটনায় তিনি এবং অ্যাক্টিভিস্ট মুনতাসির রহমান—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন:
“ওই মুনতাসির রহমানকে যদি শেষ পর্যন্ত দলে রাখার মুরোদ নাই থাকে, তাহলে কেন নাম ঘোষণা করে পরে বিনা নোটিশে বাদ দিয়ে তাকে অপমানিত করল? তাকে তো কেউ চিনতো না, তার এলজিবিটিকিউ পরিচয় সামনে এনে এবং এভাবে অপমান করে তার জীবনও হুমকির মধ্যে ফেলেছে এরা।”
দল পরিচালনায় অসততা ও সংকীর্ণতা
মুনতাসির মাহমুদ এনসিপি’র সার্বিক পরিচালন প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, দলের শুরু থেকেই “চরম অসততা, সংকীর্ণতা, দুর্নীতি এবং যোগ্যতার বদলে ভাই ব্রাদার কোরামকে সামনে আনা হয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, এর ফলে ত্যাগীদের মাইনাস করে “এনসিপি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সৃষ্ট দারুণ সম্ভাবনাগুলাকে নিজ হাতে গলা টিপে হত্যা করেছে।”
এই অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
















