পূর্ব সীমান্তে ভারতের শক্তিসাধনা: চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তে ত্রি-বাহিনীর মহড়া, আকাশপথে সতর্কতা জারি
বিশ্লেষণ ডেস্ক
ভারত-চীন সীমান্তে চলমান উত্তেজনা এবং মিয়ানমার সীমান্তের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারত তার উত্তর-পূর্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় নিয়ে আসছে। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভারতীয় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী একযোগে এক বিশাল সামরিক মহড়ার আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভুটানকে স্পর্শ করে থাকা এই অঞ্চলে মহড়ার জন্য আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের সতর্কতা ‘নোটাম’ (NOTAM) জারি করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি নিয়মিত সামরিক মহড়া নয়, বরং বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিপক্ষের প্রতি ভারতের একটি স্পষ্ট ‘কৌশলগত বার্তা’।
মহড়ার লক্ষ্য ও পরিধি
প্রতিরক্ষা দফতরের সূত্র অনুযায়ী, এই সমন্বিত মহড়ার প্রধান লক্ষ্য তিনটি:
১. সীমান্তে সার্বিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি যাচাই করা।
২. জরুরি অবস্থায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া (Rapid Response) জানানোর ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
৩. তিনটি বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার দক্ষতা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা।


এই মহড়াটি উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরার মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোর সীমান্ত অঞ্চলে পরিচালিত হবে।
তিন ধাপে মাসব্যাপী আয়োজন
পাক সীমান্তে ভারতের তিন বাহিনীর ‘ত্রিশুল’, জারি ‘অস্বাভাবিক’ নোটাম, ভূ-গোয়েন্দা গবেষক তথা উপগ্রহ চিত্র বিশেষজ্ঞ ড্যামিয়েন সাইমন ত্রিশূল মহড়ার জন্য নির্বাচিত এলাকা এবং অভিযানের ব্যপ্তীকে ‘অস্বাভাবিক’ বলেছেন।
এই বিশাল সামরিক প্রস্তুতি একবারে নয়, বরং আগামী তিন মাস ধরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। জারি করা ‘নোটাম’ অনুযায়ী:
- প্রথম ধাপ: ৬ ও ২০ নভেম্বর, ২০২৫
- দ্বিতীয় ধাপ: ৪ ও ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
- চূড়ান্ত ধাপ: ১ ও ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
এই নির্দিষ্ট তারিখগুলোতে সীমান্তবর্তী আকাশপথে বেসামরিক বিমান চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যা ‘নোটাম’ জারির মাধ্যমে সব আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনকে আগাম জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সর্বাধুনিক অস্ত্রের সমাবেশ
এই মহড়ায় ভারতের প্রতিরক্ষা ভাণ্ডারের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির প্রদর্শন হতে চলেছে। এতে অংশ নেবে রাফাল এবং সুখোই-৩০ এমকেআই -এর মতো frontline যুদ্ধবিমান। পাশাপাশি স্থলসেনার ভয়ঙ্কর ট্যাংক বহর, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, নজরদারি ড্রোন এবং আধুনিক এয়ার ডিফেন্স রাডার সিস্টেমও মোতায়েন করা হবে। উত্তর-পূর্বের সমস্ত বিমানঘাঁটি এবং সীমান্তরক্ষী স্কোয়াড্রন এই সমন্বিত অভিযানে অংশ নেবে।
সেনাবাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন,
“যদিও এটি নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও সীমান্তের অস্থিরতা বিবেচনায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। উত্তর-পূর্ব সীমান্তে আমাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এখন আরও গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর।”
















