মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, লেবাননকে কেন্দ্র করে আলোচনা ভেঙে দিলে তা ইরানের জন্য বড় ভুল হবে
মেটা বিবরণ: লেবাননকে যুদ্ধবিরতির অংশ ধরা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতবিরোধ তীব্র হয়েছে; সতর্ক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সতর্ক করে বলেছেন, লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা ইরানের জন্য অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত হবে।
তিনি জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত—এমন দাবি যুক্তরাষ্ট্র কখনও দেয়নি। যদিও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে লেবাননকে চুক্তির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
হাঙ্গেরি সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভ্যান্স বলেন, ইরান যদি এমন একটি সংঘাতে আলোচনা ভেঙে দিতে চায় যেখানে তারা চাপে ছিল, তাহলে সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, তবে তা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ঘোষিত যুদ্ধবিরতির বিবৃতি শেয়ার করে সেখানে লেবাননের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—যুদ্ধবিরতি নাকি ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের অবস্থান হলো, লেবানন এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়।
ভ্যান্স এই মতবিরোধকে একটি বৈধ ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ইরান ভেবেছিল লেবাননও যুদ্ধবিরতির আওতায় রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তা নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আলোচনায় এমন বিভ্রান্তি কীভাবে সৃষ্টি হলো তা স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, পাকিস্তানের বিবৃতিতে কেন লেবাননের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, ইসরায়েল অতীতেও একাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলের একাধিক বিমান হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে ভ্যান্স দাবি করেছেন, ইসরায়েল লেবানে তাদের হামলা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা সফল হয়।
মার্চের শুরুতে লেবাননে সংঘাত তীব্র হয়, যখন হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর রকেট হামলা চালায়। এর পেছনে ইসরায়েলের পূর্ববর্তী হামলা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়।
লেবাননের অভ্যন্তরেও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়ছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, ইরানের সমর্থনে দেশটিকে যুদ্ধে জড়িয়েছে এই সংগঠন।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহকে সমর্থন থেকে সরে আসবে না। একই সঙ্গে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে তারা পাল্টা কঠোর জবাব দেবে।
















