আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার অস্ট্রেলিয়ার একজন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। জামিনের আবেদন না করায় আদালত তাকে হেফাজতেই রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
৪৭ বছর বয়সী এই সাবেক সেনা সদস্যকে সিডনি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিরস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যা করেন বা হত্যার নির্দেশ দেন। তদন্তে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে তার অধীনস্থ সদস্যরা তার নির্দেশে এসব কাজ করেছে।
তবে অভিযুক্ত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষমূলক। তার আইনজীবীরা বলছেন, যেসব ঘটনা উল্লেখ করা হচ্ছে, সেগুলো যুদ্ধ পরিস্থিতির অংশ ছিল অথবা ঘটেনি।
এর আগে একটি মানহানি মামলার রায়ে আদালত উল্লেখ করেছিল যে অভিযোগগুলোর মধ্যে সত্যতার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। সেই মামলাটি ছিল দীর্ঘদিনের এবং এতে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ বিচারিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি জটিল ও দীর্ঘ তদন্তের ফল, যেখানে বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
আদালত আগামী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে এবং অভিযুক্তকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাটি অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীর ভাবমূর্তির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি বাহিনীর খুবই সীমিত অংশের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং অধিকাংশ সদস্যই দায়িত্ব পালনে সৎ ও পেশাদার।
















