ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজার ধরণ দ্রুত বদলে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সার্চ ব্যবস্থার প্রসারে অনেক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ভিজিটর কমে যাচ্ছে।
একটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মাত্র এক বছরে তাদের ওয়েবসাইটে দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৪ কোটি কমে গেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এআই নির্ভর সার্চ ব্যবস্থার বিস্তার।
আগে মানুষ তথ্য খোঁজার জন্য সার্চ ইঞ্জিনে বিভিন্ন লিংকে প্রবেশ করত। এখন এআই সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিচ্ছে, ফলে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের আর ওয়েবসাইটে ঢোকার প্রয়োজন পড়ছে না।
এছাড়া সার্চ প্ল্যাটফর্মগুলো নিজেদের মধ্যেই এআই সারাংশ দেখানো শুরু করায় ওয়েবসাইটে ক্লিক করার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নতুন কৌশল গ্রহণ করছে। তারা এমনভাবে কনটেন্ট তৈরি করছে, যাতে এআই সরাসরি তাদের তথ্য ব্যবহার করে উত্তর দিতে পারে।
এই নতুন পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে এআই উত্তরভিত্তিক অপটিমাইজেশন। এর লক্ষ্য হলো এআই প্ল্যাটফর্মে তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করা।
এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো বড় আকারের নিবন্ধের পরিবর্তে ছোট ছোট তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করছে, যাতে এআই সহজে সেগুলো শনাক্ত ও ব্যবহার করতে পারে।
একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের প্রশ্নের ধরনও পরিবর্তিত হয়েছে। আগে যেখানে ছোট শব্দে সার্চ করা হতো, এখন এআইতে মানুষ দীর্ঘ ও নির্দিষ্ট প্রশ্ন করছে। ফলে কনটেন্ট তৈরির ধরনেও পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।
কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিস্তারিত তথ্যভান্ডার তৈরি করছে, যাতে গবেষণামূলক তথ্য খুঁজতে গিয়ে ব্যবহারকারীরা তাদের প্ল্যাটফর্মে পৌঁছায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে ব্যবসাগুলোকে এআই সার্চ ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতেই হবে। কারণ এআই এখন শুধু তথ্য খোঁজার মাধ্যম নয়, ক্রয় সিদ্ধান্তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তাদের মতে, যারা দ্রুত এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে, তারাই ভবিষ্যতের ডিজিটাল বাজারে এগিয়ে থাকবে।
















