পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগে সামনে এলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
ব্যাকচ্যানেল আলোচনায় নতুন গতি, ইরানের দৃষ্টিতে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য মুখ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, সেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে, ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা আলোচনায় যুক্ত আছেন।
সূত্র বলছে, পাকিস্তানের উদ্যোগে শেষ মুহূর্তের এই আলোচনায় ভ্যান্স ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠেছেন।
বিশেষ করে ইরান তাকে অন্য মার্কিন প্রতিনিধিদের তুলনায় বেশি গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখছে।
এর পেছনে একটি বড় কারণ হলো—ভ্যান্স অতীতে নতুন যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন এবং কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মনে করে ভ্যান্স সরাসরি যুদ্ধপন্থী নন এবং তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আগ্রহী।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য আলোচকরা পূর্ববর্তী আলোচনার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের প্রতি ইরানের আস্থা কিছুটা কমে গেছে।
পাকিস্তান ইতোমধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিসরের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একটি শান্তি প্রস্তাব তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই প্রস্তাবে প্রথমে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ, এরপর পূর্ণ যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে উত্তেজনাও সমানভাবে বাড়ছে, কারণ একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা এগোচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক হামলা ও কঠোর বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে ভ্যান্সের ভূমিকা শুধু কূটনৈতিক নয়—রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ তিনি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আসার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছেন এবং এই সংকট সমাধানে ভূমিকা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা এই আলোচনায় জেডি ভ্যান্স একটি কৌশলগত মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন, যিনি দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
















