বৈরুতে বিমান হামলা, দক্ষিণ লেবাননে বাড়ছে সংঘাত
পাল্টা হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হিজবুল্লাহ, সীমান্তে উত্তেজনা তীব্র
লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী বৈরুত ও দক্ষিণাঞ্চলে চালানো এসব হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। একই সময় দক্ষিণ লেবাননে চালানো হামলায় আরও ১০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে একটি পরিবারের ছয় সদস্যও রয়েছে।
বৈরুতের জানাহ এলাকায় হামলায় আরও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। হামলাটি দেশের বৃহত্তম সরকারি হাসপাতালের কাছাকাছি এলাকায় আঘাত হানে, যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েল জানায়, তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে এই দাবির পক্ষে তাৎক্ষণিক কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলা চালানোর পর এই সংঘাত শুরু হয়।
রোববার হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা লেবাননের উপকূল থেকে দূরে একটি ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। যদিও এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েল ইতোমধ্যে দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করেছে এবং সীমান্ত এলাকায় তাদের সেনা অগ্রসর হচ্ছে।
এদিকে লেবানন ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী প্রধান সীমান্ত পথেও হামলার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
লেবাননের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পথটি মূলত বেসামরিক ব্যবহারের জন্য এবং এর সঙ্গে সামরিক কার্যক্রমের কোনো সম্পর্ক নেই।
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় গ্রাম ধ্বংস ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটছে। অনেক মানুষ নিরাপত্তার জন্য এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতি শান্ত করতে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আরও ধ্বংস এড়াতে সংলাপই হতে পারে একমাত্র পথ।
চলমান এই সংঘাতে ইতোমধ্যে লেবাননে হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।
















