বারবার হামলায় বাড়ছে তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকি, প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো অঞ্চলে
পানি, খাদ্য ও পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
ইরানের একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বুশেহরকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ চলমান যুদ্ধে এই স্থাপনাটি একাধিকবার হামলার মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কেন্দ্রে বড় ধরনের আঘাত লাগলে তা শুধু ইরান নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সাম্প্রতিক হামলায় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইরান দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই স্থাপনাটি একাধিকবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রটি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখানে একটি সক্রিয় চুল্লি রয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই কেন্দ্রের চুল্লি বা ব্যবহৃত জ্বালানির সংরক্ষণস্থলে হামলা হলে বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এসব পদার্থ বাতাস ও পানির মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকাতেও ছড়িয়ে যেতে পারে এবং মাটি, খাদ্য ও পানির উৎসকে দীর্ঘদিনের জন্য দূষিত করতে পারে।
তেজস্ক্রিয়তার সরাসরি সংস্পর্শে এলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাশাপাশি বৃহৎ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থাও এই ধরনের স্থাপনায় হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছে। তাদের মতে, এমন হামলা হলে আঞ্চলিক পর্যায়ে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে এবং বহু দেশের মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে পানিদূষণ। এই অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশ সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধ করে পানীয় হিসেবে ব্যবহার করে। কিন্তু তেজস্ক্রিয় পদার্থ মিশে গেলে সেই পানি বিশুদ্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
গবেষণায় দেখা গেছে, উপসাগরের পানি অগভীর হওয়ায় তেজস্ক্রিয় দূষণ দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যেতে পারে এবং সামুদ্রিক প্রাণীসহ পুরো পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, যদি তেজস্ক্রিয়তা পানিতে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে পানি বিশুদ্ধকরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা পানীয় জলের বড় সংকট সৃষ্টি করবে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো নিষিদ্ধ এবং এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে, কারণ এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, বুশেহর কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এখানে কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব সীমান্ত ছাড়িয়ে বহু দেশে পৌঁছাতে পারে।















