একমুখী শিক্ষা ও ইংরেজি চর্চায় জোর দেওয়ার আহ্বান; কারিগরি শিক্ষাই হতে পারে বেকারত্ব দূরীকরণের চাবিকাঠি
আধুনিক ও তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে কেবল সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষা নয়, বরং মানসম্পন্ন ও যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়ে দেশের বর্তমান বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থাকে (ইংরেজি, বাংলা ও আরবি মাধ্যম) সমন্বিত করে একটি একমুখী ও কর্মমুখী কাঠামোতে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে শিক্ষার বিস্তার ঘটলেও গুণগত মান নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় রয়েছে। ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের কথা থাকলেও বর্তমানে তা ২ শতাংশেরও কম। ফলে গবেষণা ও উচ্চতর জ্ঞানচর্চায় দেশ পিছিয়ে পড়ছে। এই স্থবিরতা কাটাতে এবং শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘শিক্ষা কমিশন’ গঠন এখন অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান সংকট ও প্রস্তাবিত সমাধান:
- একমুখী শিক্ষা ও ইংরেজি চর্চা: বর্তমানের ত্রি-ধারার শিক্ষাব্যবস্থাকে একীভূত করতে হবে। বিশ্বায়নের যুগে জ্ঞানের প্রধান মাধ্যম ইংরেজি হওয়ায় প্রাথমিক স্তর থেকেই এই ভাষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।
- কারিগরি ও আত্মকর্মসংস্থান: উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ৩০ শতাংশই বর্তমানে বেকার। এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে মাধ্যমিক স্তর থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতা থাকলে তরুণদের চাকরির জন্য বসে থাকতে হবে না; তারা নিজেরাই আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবে।
- শিক্ষা খাতের বাণিজ্যিকীকরণ রোধ: প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন কেবল মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি প্রয়োজন। শিক্ষা কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয়, বরং নাগরিকের মৌলিক অধিকার।
- ছাত্র রাজনীতির সংস্কার: ছাত্র রাজনীতি বন্ধ না করে একে সংস্কার করতে হবে। ছাত্ররা যেন দলীয় লেজুড়বৃত্তি না করে নিজেদের সমস্যা ও অধিকার নিয়ে রাজনীতি করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
- দক্ষ শিক্ষক ও গবেষণা: মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যের আসক্তি বন্ধ করে গবেষণামুখী পাঠদানে উৎসাহিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞের অভিমত: আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের অন্তর্মুখী শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারই পারে একটি আলোকিত ও স্বনির্ভর সমাজ গঠন করতে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারলে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের চাহিদাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।














