মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার ৩৭তম দিনে ইরান যুদ্ধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। নিখোঁজ এক মার্কিন বিমানকর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুলিতে ভূপাতিত একটি যুদ্ধবিমানের দুই সদস্যের একজন আগে উদ্ধার হলেও অন্যজন নিখোঁজ ছিলেন। পরে বিশেষ বাহিনীর অভিযানে তীব্র সংঘর্ষের মধ্যে তাকে উদ্ধার করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
ইরান এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ ট্রাম্পের হুমকিকে ‘অযৌক্তিক ও দুর্বল’ বলে মন্তব্য করেছে।
ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলায় হতাহত
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সংঘর্ষের সময় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। এছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেও হামলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির মাহশাহর পেট্রোকেমিক্যাল এলাকায় হামলায় পাঁচজন নিহত ও প্রায় ১৭০ জন আহত হয়েছেন বলে ইরান জানিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৩০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ও হামলার শিকার হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইসফাহান অঞ্চলে এই ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়।
গালফ অঞ্চলে হামলা ছড়িয়ে পড়েছে
যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও। কুয়েতে ড্রোন হামলায় বিদ্যুৎ ও পানি উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও একটি শিল্প কারখানায় আগুন লেগে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
বাহরাইনেও একটি স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন দেশে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে।
লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে হামলার আগে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সিরিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ পারাপার পথও বন্ধ হয়ে গেছে হামলার আশঙ্কায়।
ইসরায়েল ও ইয়েমেনের হামলা-পাল্টা হামলা
ইসরায়েলের দিকে ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এর জবাবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।
জ্বালানি সংকট ও হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান কার্যত এই পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট বৈঠকে বসছে।
সামগ্রিকভাবে যুদ্ধের বিস্তৃতি ও তীব্রতা বাড়তে থাকায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে।
















