ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বাজারে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক কিশোরীও রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
শনিবার সকালে স্থানীয় সময় প্রায় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে নিখোপোল শহরে এই হামলা ঘটে। শহরটি দনিপ্রো নদীর তীরে অবস্থিত এবং নদীর ওপারেই রয়েছে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত এলাকা।
হামলার পর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বাজারের দোকানগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ, কাচ ও ধাতব টুকরা।
নিখোপোল শহরটি দীর্ঘদিন ধরেই হামলার শিকার হয়ে আসছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রায় অর্ধেক বাসিন্দা আগেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। তবে দিনের বেলায় ব্যস্ত সময়ে এই হামলা হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে।
একই স্থানে দ্বিতীয় দফা হামলায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।
এর আগের দিনও ইউক্রেনজুড়ে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, এক রাতেই প্রায় ৩০০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। খারকিভ ও সুমি অঞ্চল থেকেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার সামরিক শিল্পে ব্যবহৃত কিছু স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে, যাতে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
এর মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ইস্টার উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
একই সময়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের দিকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরে যাওয়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিচালনাও ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
















