ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, হামলার ফলে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষে ওই ব্যক্তি নিহত হন।
সংস্থাটি ইরানের কর্তৃপক্ষের বরাতে জানায়, হামলার পর বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ধরনের তেজস্ক্রিয়তা বৃদ্ধি পায়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, চলমান সংঘাতের মধ্যে বুশেহর স্থাপনার আশপাশে এটি চতুর্থবারের মতো হামলা। তিনি পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পারমাণবিক স্থাপনা বা এর আশপাশে হামলা করা উচিত নয়, কারণ এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানায়, হামলায় একটি সহায়ক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে মূল বিদ্যুৎকেন্দ্র অক্ষত রয়েছে। নিহত ব্যক্তি নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা জানায়, হামলার পর বুশেহর কেন্দ্র থেকে তাদের প্রায় দুই শতাধিক কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বুশেহর ইরানের একমাত্র চালু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং এটি দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও সামরিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
এদিকে একই দিনে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের খুজেস্তান অঞ্চলে বেশ কয়েকটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
মাহশাহর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। একাধিক শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং আরও দুটি যুদ্ধবিমান নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।
সব মিলিয়ে, পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
















