পেট্রোল-অকটেনের শতভাগ মজুত নিশ্চিত করেছে সরকার; কালোবাজারি রুখতে কিউআর কোড ও ফুয়েল কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এক অস্বাভাবিক সংকটের মুখে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক। বুধবার রাজধানীর আসাদগেটসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে তেলের জন্য অপেক্ষমাণ যানবাহনের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সারি। দীর্ঘ ৩০ বছরের কর্মজীবনে এমন হাহাকার দেখেননি বলে জানিয়েছেন অনেক চালক। মূলত ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তেল ফুরিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক বা ‘প্যানিক বায়িং’ থেকেই এই কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে পেট্রোল ও অকটেনের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা থাকায় বিশ্ববাজারের সরবরাহ বিঘ্নিত হলেও দেশ পুরোপুরি জ্বালানিশূন্য হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মে মাস পর্যন্ত দেশের তেলের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত মজুত বর্তমানে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে পেট্রোলের চাহিদা ৪ লাখ ৬২ হাজার টন এবং অকটেনের চাহিদা ৪ লাখ ১৫ হাজার টন। এর মধ্যে পেট্রোলের প্রায় শতভাগই অভ্যন্তরীণ গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে এবং ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের মাধ্যমে মেটানো সম্ভব হয়। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) দুটি প্ল্যান্ট এবং চারটি বেসরকারি রিফাইনারি বর্তমানে এই অভ্যন্তরীণ চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করছে। এসজিএফএল-এর মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জীবন শান্তি সরকার নিশ্চিত করেছেন যে, দেশীয় কনডেনসেট থেকে উৎপাদিত পেট্রোল আমদানির প্রয়োজন পড়ে না। তবে গত কয়েক দিনে চাহিদার তুলনায় ২০ থেকে ৩০ গুণ বেশি তেল ক্রয়ের প্রবণতা তৈরি হওয়ায় অনেক পাম্পে বরাদ্দ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সাময়িকভাবে সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।
জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, সরকার দৈনিক ১৬০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। কালোবাজারি ও অবৈধ মজুত রোধে ঢাকা শহরের মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ‘কিউআর কোড’ এবং বিভিন্ন জেলায় ‘ফুয়েল কার্ড’ ও জোড়-বেজোড় নম্বর অনুযায়ী তেল সরবরাহের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পাম্পে তদারকির জন্য নিয়োগ করা হয়েছে বিশেষ ‘ট্যাগ অফিসার’। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম মনে করেন, বর্তমানে রাস্তায় যে লাইন দেখা যাচ্ছে তা মূলত আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত ক্রয়ের ফল। সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, সিঙ্গাপুর থেকে বেশি দামে তেল আমদানি করে স্টকের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে এবং জনগণের সাশ্রয়ী ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
















