১৯৭১ সালের বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাদের দ্বারা চালানো ভয়াবহ গণহত্যা ও নৃশংসতার স্বীকৃতি দিতে মার্কিন কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। মার্কিন সাংসদ গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান ২০ মার্চ এই প্রস্তাব পেশ করেন। প্রস্তাবে শুধু হত্যাকাণ্ড নয়, ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও গৃহচ্যুতি-সহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের কথাও উল্লেখ রয়েছে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষভাবে স্থানীয় সহায়ক ‘জামায়াতে ইসলামী’-এর উগ্র আদর্শের নিন্দাও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রস্তাবটি কংগ্রেসে পাশ না হলেও ভারত জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য। প্রস্তাবের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ভারতের সামরিক ও নৈতিক হস্তক্ষেপের বৈধতা আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ভারতের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল পাকিস্তানের যুদ্ধাপরাধ ও সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর পরিকল্পিত নৃশংসতার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা। প্রস্তাব পেশের পর ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
এছাড়া, প্রস্তাবটিতে জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মানবতাবিরোধী কার্যকলাপ ও গণহত্যার স্বীকৃতি প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী পুনরুত্থান ঘটেছে এবং তারা নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এর ফলে নয়াদিল্লির উদ্বেগ বেড়েছে এবং এই প্রস্তাব ভারতের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক কৌশলকে সমর্থন দেবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রস্তাবটি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে কাজ করবে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারতের লড়াই ও নীতিগত অবস্থানও এতে বৈধতা পাবে।
















