নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের লক্ষ্যে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের ওপর পঞ্চম দিনের শুনানি
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) চতুর্থ দিনের শুনানি শেষে এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
শুনানির অগ্রগতি ও মূল বক্তব্য:
- চতুর্থ দিনের শুনানি: মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
- প্রথম তিন দিনের শুনানি: গত ২১ ও ২২ অক্টোবর প্রথম দুই দিনের শুনানি শেষ করেন রিটকারী সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। ২৩ অক্টোবর তৃতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
- আপিলের অনুমতি: এর আগে গত ২৭ আগস্ট আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন এবং পুনরায় এই বিষয়ে শুনানি গ্রহণের ঘোষণা দেন।
- আদালতের অবস্থান: গত ২৭ আগস্ট শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আপিল বিভাগ সাময়িক সমাধান নয়, বরং নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে একটি কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী সমাধান দিতে চায়, যা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক হবে এবং বারবার রাজনৈতিক সংকট এড়াতে পারে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য:
শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি যখন জানতে চান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিলে তা কখন থেকে কার্যকর হবে, তখন রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেন:
- গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট: তিনি উল্লেখ করেন যে গত দেড় দশকে দেশের মানুষ গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে। জনগণের অধিকার রক্ষাকারী ব্যবস্থাগুলো ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
- জনগণের ক্ষমতা: অ্যাটর্নি জেনারেল জোর দিয়ে বলেন, রাজপথ থেকেই নির্ধারিত হয়েছে কে প্রধান বিচারপতি হবেন এবং কে সরকারপ্রধান হবেন। জনগণের এই ক্ষমতাকে অবজ্ঞা করার কোনো সুযোগ নেই, কারণ তা অবজ্ঞা করলেই বিপ্লবের সৃষ্টি হয়।
মামলার সংক্ষিপ্ত পটভূমি:
- সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী: ১৯৯৬ সালে এই সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- হাইকোর্ট ও আপিল: ১৯৯৮ সালে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হলেও হাইকোর্ট এটিকে বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর ২০০৫ সালে আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করা হয়।
- বাতিল ঘোষণা: ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেন। ফলস্বরূপ, ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়।
- রিভিউ আবেদন: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ২৭ আগস্ট প্রথমবার ২০১১ সালের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন। পরবর্তীতে বিএনপি মহাসচিব এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলসহ মোট চারটি রিভিউ আবেদন শুনানিতে ওঠে।
















