সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিস্তার ঠেকাতে প্রস্তুতি; ইকোওয়াস–এইএস টানাপোড়েন বড় চ্যালেঞ্জ
পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো সীমান্তপারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা দমনে আঞ্চলিক স্ট্যান্ডবাই বাহিনী সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত সপ্তাহে সিয়েরা লিওনে নিরাপত্তা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় ইকোওয়াস। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রাথমিকভাবে দুই হাজার সেনা মোতায়েন করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, অঞ্চলটি এখন “অস্তিত্বগত নিরাপত্তা হুমকি”র মুখে। আল-কায়েদা ও আইএস-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো মালি, নাইজার, বুরকিনা ফাসো ও নাইজেরিয়ায় নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে; একই সঙ্গে টোগো ও বেনিনের মতো উপকূলীয় দেশেও বিস্তার ঘটাচ্ছে। কোথাও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা, কোথাও রাজধানীতে জ্বালানি অবরোধ—সহিংসতার ধরন আরও জটিল হয়েছে।
স্ট্যান্ডবাই বাহিনী কী?
ইকোওয়াস স্ট্যান্ডবাই ফোর্স গঠিত হয় ১৯৯৯ সালে, যদিও এর আগেও আঞ্চলিক বাহিনী সংঘাতে হস্তক্ষেপ করেছে। লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনের গৃহযুদ্ধ অবসানে এ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরে আইভরি কোস্ট ও মালিতে শান্তিরক্ষা অভিযানে অংশ নেয় এবং গাম্বিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরে চাপ প্রয়োগে সহায়তা করে।
তবে এবার লক্ষ্য ভিন্ন—রাজনৈতিক বিদ্রোহ নয়, আদর্শিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত অঞ্চলে প্রায় ১৩ হাজার সংঘাতজনিত মৃত্যুর তথ্য সামনে এসেছে, যার অধিকাংশ নাইজেরিয়া, বুরকিনা ফাসো, মালি ও নাইজারে।
বড় চ্যালেঞ্জ কোথায়?
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থায়ন ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন সবচেয়ে বড় বাধা। নাইজেরিয়া ঐতিহাসিকভাবে ইকোওয়াস মিশনে অধিকাংশ সেনা ও অর্থ জুগিয়েছে, কিন্তু বর্তমানে দেশটি নিজেই বহু ফ্রন্টে নিরাপত্তা সংকটে। অর্থনৈতিক চাপও রয়েছে। সম্ভাব্য অর্থায়নের উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বা ফ্রান্সের নাম আলোচনায় এলেও তা নিশ্চিত নয়।
আরেকটি জটিলতা হলো অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস বা এইএস—মালি, নাইজার ও বুরকিনা ফাসোর সামরিক সরকারগুলোর জোট। ২০২৫ সালে তারা ইকোওয়াস ছাড়ে। বর্তমানে তারা রাশিয়ার সহায়তায় নিজস্ব ছয় হাজার সদস্যের যৌথ বাহিনী গঠনের চেষ্টা করছে। ফলে সমন্বিত অভিযান কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সামরিক অভিযান যথেষ্ট হবে না। গ্রামীণ অঞ্চলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ বাড়িয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়োগ নেটওয়ার্ক দুর্বল করতে হবে। অনেক এলাকায় এসব গোষ্ঠী কর আদায়, সার সরবরাহ বা নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থানীয় সমর্থন আদায় করছে।
সক্রিয় প্রধান গোষ্ঠীগুলো
অঞ্চলে সক্রিয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন, বোকো হারাম, ইসলামিক স্টেট পশ্চিম আফ্রিকা প্রদেশ, ইসলামিক স্টেট সাহেল প্রদেশ, আনসারু এবং লাকুরাওয়া। এদের সদস্যসংখ্যা কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার পর্যন্ত এবং অনেকে সীমান্ত পেরিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সব মিলিয়ে, ইকোওয়াসের নতুন মোতায়েন সহিংসতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও রাজনৈতিক বিভাজন, অর্থসংকট ও কৌশলগত সমন্বয়ের অভাব কাটাতে না পারলে এর কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা।
















