টানা তৃতীয় দিনের বিস্ফোরণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বহু দেশে ক্ষয়ক্ষতি
মধ্যপ্রাচ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
সোমবার পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে ১৩১টি এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মিনাব শহরে একটি কন্যাশিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় প্রায় ১৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
ইসরায়েলে ইরানি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। মধ্যাঞ্চলের বেইত শেমেশে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। তেল আবিবেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ধ্বংসাবশেষে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অঞ্চলে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের মধ্যেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কুয়েতে ইরানি হামলায় চার মার্কিন সেনা নিহত এবং অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আরও কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশেও হামলার প্রভাব পড়েছে। বাহরাইনে একটি ঘটনায় একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। ইরাকে দুই যোদ্ধা নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। কুয়েতে একজন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন। ওমানে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। কাতারে ১৬ জন আহত হয়েছেন। জর্ডান ও সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত ও ১৪৯ জন আহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তারা উত্তর ইসরায়েলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অঞ্চলের অন্তত ১৯টি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
















