বিএনপি সরকারের নতুন কূটনৈতিক নীতিতে সমতা, অ-হস্তক্ষেপ ও পারস্পরিক সুবিধার অঙ্গীকার
ক্ষমতায় এসেই জাতীয় মর্যাদা ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের বার্তা
ঢাকায় ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ঘোষণা দিয়েছে। নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, দেশের কূটনীতি এখন থেকে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে।
পদ্মা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ‘আমাদের মূলমন্ত্র বাংলাদেশ ফার্স্ট। সবার আগে থাকবে বাংলাদেশ। আমরা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করব না, এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ব।’
সরকার ঘোষিত পাঁচটি ভিত্তি হলো— সার্বভৌম সমতা, স্বাধীনতার প্রতি সম্মান, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অ-হস্তক্ষেপ, জাতীয় সম্মান সংরক্ষণ এবং পারস্পরিক সুবিধা। প্রতিবেশীসহ সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এই নীতির ভিত্তিতেই এগোবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার নতুন করে মূল্যায়নের কথাও বলেন।
মন্ত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অতীতে এই বাস্তববাদী কূটনীতি বাংলাদেশকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আসন পেতে সহায়তা করেছিল এবং সার্ক প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিল। তবে নতুন সংস্করণে জাতীয় স্বার্থের বাস্তব অর্জনকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ কোনো একক দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হবে না এবং ‘মেরুদণ্ড সোজা রেখে’ সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে।
এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটেও রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের সূচনা হয়েছে অন্তর্বর্তী শাসনের পর, যা দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ নীতিকে ইতিবাচক বললেও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মুনশি ফয়েজ আহমেদ বলেন, অতীতে ব্যক্তিগত বা তৃতীয় পক্ষের স্বার্থে জাতীয় অবস্থান দুর্বল হয়েছে; ভবিষ্যতে সত্যিই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই হবে মূল পরীক্ষা।
ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক, বাণিজ্য আলোচনা, নদীর পানি বণ্টন, অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং রোহিঙ্গা সংকট— সব ক্ষেত্রেই এই নতুন নীতির বাস্তব প্রয়োগ দ্রুতই যাচাই হবে। সরকার বলছে, একতরফা ব্যবস্থার যুগ শেষ; এখন থেকে পূর্ণ জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করেই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে।
















