নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তারেক রহমানের শপথের অপেক্ষা; বঙ্গভবনে সাজ সাজ রব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসনে (জোটসহ ২১২) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বড় জয়ের পর এখন রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দীর্ঘ ২০ বছর পর রাজপথের লড়াই শেষে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় ফেরা দলটির জন্য এখন বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ইতোমধ্যেই ৫০টি বিলাসজাত গাড়ি প্রস্তুত রেখেছে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর (পরিবহন পুল)।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ব্যবহৃত গাড়িগুলোর পাশাপাশি সংরক্ষিত গাড়ি নিয়ে এই বহর সাজানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের তত্ত্বাবধানে শপথ অনুষ্ঠানের ফোল্ডার তৈরি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শীঘ্রই নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। তবে শপথের চূড়ান্ত তারিখ এখনও ঘোষিত না হলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে যে, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই নতুন সূর্যোদয় দেখবে সংসদীয় গণতন্ত্র।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর এখন তাঁর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পথে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, দরবার হলে শপথ অনুষ্ঠানের সব ধরনের প্রটোকল বজায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রীতি অনুযায়ী প্রথমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন, এরপর সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রাহেদ হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চাহিদাপত্র অনুযায়ী ৫০টি গাড়ি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে তরুণ ও প্রযুক্তিজ্ঞানে সমৃদ্ধ মুখদেরও দেখা যেতে পারে। মন্ত্রিসভার আকার কত বড় হবে তা নির্ভর করছে দলের হাইকমান্ডের ওপর, তবে বিগত সরকারের অভিজ্ঞতায় ২০ থেকে ৩০ সদস্যের একটি কার্যকর মন্ত্রিসভা গঠনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল থেকেও অভিনন্দনের জোয়ার ভাসছে বিএনপি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুসহ বিশ্বের প্রভাবশালী নেতারা তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এখন কেবল অপেক্ষার পালা সেই মুহূর্তের, যখন ২০ বছরের বিরতি শেষে আবারও বঙ্গভবনের বারান্দা থেকে বেজে উঠবে গণতান্ত্রিক সরকারের শপথের সুর।
















