“শাপলা কলিতে বেশি সিল পড়ার কারণে অনেকে ভয় পাচ্ছে। এজন্য ভোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে।”
সিসিটিভি ফুটেজ দেখার দাবি; ‘মাথায় হাত দেবেন না, শেষ পর্যন্ত খেলুন’
ঢাকা-৮ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন যে, মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে তার পোলিং এজেন্টকে প্রায় তিন ঘণ্টা প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কেন্দ্রটি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন এবং ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ জনসমক্ষে আনার দাবি জানান।
ঢাকা-৮ আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী (প্রতীক: শাপলা কলি) তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের বদলে ‘দলীয় গুণ্ডারা’ তার এজেন্টকে তল্লাশি ও বাধা প্রদান করেছে।
নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের মূল দিকসমূহ:
- এজেন্টকে বাধা: পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, “মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে আমাদের এজেন্টকে এক ঘণ্টা দেরিতে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে এবং তিন ঘণ্টা কাজ করতে দেওয়া হয়নি। এই সময়ে কেন্দ্রের ভেতরে কী হয়েছে, আমরা তা জানতে চাই।”
- প্রতিদ্বন্দ্বীকে হুঁশিয়ারি: মির্জা আব্বাসের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “শাপলা কলিতে বেশি সিল পড়ার কারণে অনেকে ভয় পাচ্ছে। আমি বলব—ভয় পাবেন না, মাথায় হাত দেবেন না। যেহেতু খেলতে নেমেছেন, পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থাকুন। খেলা শেষে শাপলা কলিরই জয় হবে।”
- আওয়ামী লীগ-বিএনপি আঁতাতের দাবি: তিনি অভিযোগ করেন যে, লাঙল, ধান ও আওয়ামী লীগ এখন ‘একাকার’ হয়ে গেছে। তার দাবি, জেন-জি ভোটাররা গোপনে শাপলা কলিতে ভোট দিচ্ছে।
- শহীদ ওসমান হাদির বিজয়: পাটওয়ারী এই নির্বাচনকে কেবল নিজের লড়াই নয়, বরং নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির লড়াই হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ভোটাররা তাকে ভোট দিচ্ছেন হাদি ভাইয়ের ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে।
- পাল্টা আঘাতের হুমকি: নির্বাচনী প্রচারণায় তাদের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “প্রশাসনের সামনে যদি কাউকে আঘাত করা হয়, তবে আমরা পাল্টা আঘাত করব।”
উল্লেখ্য, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি ও এনসিপি প্রার্থীর মধ্যে প্রচারণার শুরু থেকেই তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে। আজ ভোটের দিনও কেন্দ্রে এজেন্ট ঢোকানো নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অনিয়মের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
















