উনিশ শতকের শেষ দিকে ব্রিটিশ সেনাদের হাতে লুট হওয়া ১০০টির বেশি আফ্রিকান শিল্পনিদর্শনের মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে নাইজেরিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও নাইজেরিয়ার জাতীয় জাদুঘর ও স্মৃতিস্তম্ভ কমিশন যৌথভাবে জানিয়েছে, মোট ১১৬টি নিদর্শন তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
এই শিল্পবস্তুগুলো ‘বেনিন ব্রোঞ্জ’ নামে পরিচিত। ১৮৯৭ সালে ব্রিটিশ বাহিনী বেনিন সিটি দখলের সময় এগুলো নিয়ে যায়। বর্তমানে এগুলো কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব ও নৃবিজ্ঞান জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।
নাইজেরিয়া ২০২২ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরতের আবেদন জানায়। বিশ্ববিদ্যালয় সে অনুরোধ সমর্থন করে এবং যুক্তরাজ্যের চ্যারিটি কমিশনের অনুমোদনের পর মালিকানা হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। উভয় পক্ষ জানিয়েছে, অধিকাংশ নিদর্শনের শারীরিক প্রত্যাবর্তন বছরের শেষের আগেই সম্পন্ন হতে পারে।
বেনিন ব্রোঞ্জ বলতে পঞ্চদশ থেকে উনিশ শতকের মধ্যে নির্মিত ধাতব ভাস্কর্য, ফলক ও খোদাই কাজকে বোঝায়। এগুলো বর্তমান নাইজেরিয়ার এডো অঙ্গরাজ্যের প্রাচীন বেনিন রাজ্যের ঐতিহ্যের অংশ। শিল্পগুণের জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত এই নিদর্শনগুলো স্থানীয় জনগণের কাছে গভীর আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।
নাইজেরিয়ার জাদুঘর কমিশনের মহাপরিচালক ওলুগবিলে হলোওয়ে জানিয়েছেন, নিদর্শনগুলো লাগোস ও বেনিন সিটির জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী প্রদর্শনীর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ১৭টি নিদর্শন প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য কেমব্রিজ জাদুঘরে ঋণ হিসেবে প্রদর্শিত হবে, যাতে গবেষক ও দর্শনার্থীরা তা দেখতে পারেন।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, দীর্ঘ এক দশক ধরে নাইজেরিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, বেনিন রাজদরবারের প্রতিনিধি ও শিল্পীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, উপনিবেশিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে নেওয়া শিল্পবস্তু ফেরত দেওয়ার পক্ষে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমর্থন বেড়েছে।
নাইজেরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি শুধু বস্তু ফেরত পাওয়া নয়; বরং যে গৌরব ও মর্যাদা হারিয়েছিল, তা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া।
















